
ঢাকা: দেশে কোনো শিশু শিক্ষা বঞ্চিত থাকবে না বলে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, সরকার এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর, যেখানে শিক্ষাজীবনের যেকোনো পর্যায়ে কেউ ঝরে পড়লেও তাকে যেন বেকার থাকতে না হয়। সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় শিক্ষাখাতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সফল ও গুণী শিক্ষকদের হাতে মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা এবং বিশেষায়িত স্তরের সেরা শিক্ষকদের দুই লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র প্রদান করা হয়। বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের শিক্ষা নীতিমালার মূল ফোকাস হলো বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার, সমান সুযোগ এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। দেশের বিশাল এই শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান বাড়াতে শহর ও গ্রামের মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে আনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষকদের মর্যাদা ও পেশাগত সুরক্ষা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকতা পেশাকে কখনোই সাধারণ চাকরি বা বিকল্পহীন উপায় হিসেবে দেখা যাবে না। রাষ্ট্র ও সমাজের সবচেয়ে মেধাবী মুখগুলো যেন শিক্ষকতাকে প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন, সেজন্য শিক্ষক নিয়োগ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কার আনা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের বেতন ও অবসরভাতা প্রাপ্তির জন্য আর কষ্ট করে দপ্তরে ঘুরতে হবে না, বরং স্বয়ংক্রিয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে যথাসময়ে তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল যুগ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রথাগত শিক্ষা পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সিলেবাসকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হয়েছে। মুখস্থ বিদ্যার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৌতূহল ও সৃজনশীলতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দময় পাঠদান নিশ্চিত করতে 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' নামক নতুন বই প্রবর্তন করা হয়েছে। পাশাপাশি, 'ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব' কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষকদের হাতে ডিজিটাল লেসন প্ল্যান ও আধুনিক শিক্ষণ উপকরণ তুলে দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসের এই মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী আরও ঘোষণা দেন যে, এখন থেকে দেশের যেকোনো জাতীয় দিবসে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় বাধ্যতামূলকভাবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্তত একজন করে শিক্ষককে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। শিক্ষকরাই জাতির মূল কারিগর উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজে শিক্ষকদের সম্মান অক্ষুণ্ণ থাকলেই কেবল রাষ্ট্রের প্রকৃত মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। শিক্ষা খাতের এই রূপকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই আগামীদিনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম এক প্রজন্ম গড়ে উঠবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।