সারাদেশে সবুজায়নের পরিধি বাড়াতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এক অনন্য উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আজ সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় সাড়ে ২৯ হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বড় পরিসরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই নতুন সবুজায়ন কর্মসূচি শুরু হলো।
রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক মূল অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুর ২টায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এর আওতায় দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের মোট ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে গাছ লাগানো হয়, যার মধ্যে ১৮ হাজার ৯০৭টি বিদ্যালয়, ১ হাজার ৪৪৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ৯ হাজার ২৬৮টি মাদ্রাসা রয়েছে। মূলত প্রতিজন শিশুকে প্রতিবছর বৃক্ষরোপণে সম্পৃক্ত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ স্লোগানকে সামনে রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ বছরে দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ৫ কোটি গাছ লাগানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে মন্ত্রণালয়ের।
এই পরিবেশবান্ধব লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতিবছর প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ৫ হাজার টাকা করে বিশেষ ‘জলবায়ু সচেতনতা অনুদান’ দেওয়া হচ্ছে। এ বছর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিটি ক্যাম্পাসে ১টি ফলদ, ১টি বনজ ও ১টি ঔষধি বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় পর্দায় সরাসরি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনেকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরাসরি নিজেদের অনুভূতি প্রকাশেরও সুযোগ পান। এই উপলক্ষ্যে প্রতিটি ক্যাম্পাসে জলবায়ু বিষয়ক ব্যানার-ফেস্টুন টাঙানোর পাশাপাশি বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়।
একই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’-এর জাতীয় পর্যায়ের প্রদর্শনী পরিদর্শনের পাশাপাশি তরুণ বিজ্ঞানীদের তৈরি সেরা স্টার্টআপগুলোর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এর আগে অনুষ্ঠানটির সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শনে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে যান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।
মন্তব্য করুন