|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

রিয়াদের বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ওমরাহযাত্রী নাসরুল্লাহ নিহত

0 শেয়ার
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দর ও শোকাহত পরিবারের ফাইল ছবি
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দর ও শোকাহত পরিবারের ফাইল ছবি
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন কুমিল্লার ওমরাহযাত্রী মাওলানা নাসরুল্লাহ বদরপুরি।
  • প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
  • নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে শোকার্ত পরিবার।

পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার পথে রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মাওলানা নাসরুল্লাহ বদরপুরি (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষক ও ওমরাহযাত্রী নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় বেলা ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদের কিং খালেদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের টার্মিনাল-৩ এর ওপর এই ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। নিহত নাসরুল্লাহ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের ওলামাবাড়ির বাসিন্দা এবং রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকার জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসার সহকারী প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তাঁর আকস্মিক এই মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা: আত্মসমর্পণ করে কারাগারে শাহিনুজ্জামান

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন নাসরুল্লাহ। পরিকল্পনা ছিল রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় পৌঁছে পবিত্র মক্কায় ওমরাহ পালন করা। কিন্তু রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিটের সময় ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বিমানবন্দরটির টার্মিনালে যখন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা অপেক্ষমাণ ছিলেন, ঠিক তখনই সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়।

নাসরুল্লাহর ভগ্নিপতি মাওলানা মো বলেন, রিয়াদের বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটির দুই ঘণ্টার ট্রানজিট ছিল এবং সেখান থেকে তাঁর জেদ্দায় যাওয়ার কথা ছিল। ট্রানজিট শেষে বোর্ডিং পাস নিয়ে যখন উড়োজাহাজে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এই হামলার ঘটনা ঘটে। উড়োজাহাজে ওঠার সৌভাগ্য আর হয়নি তাঁর। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশিসহ মোট ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অপর নিহত বাংলাদেশি হলেন বগুড়ার মো. শাহেদ আহম্মেদ।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

পরিবারের আকুতি ও শেষ ইচ্ছা

সন্তান হারানো বাবা মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে আল্লাহর ঘরে গিয়েছিল ওমরাহ করতে, কিন্তু তার সেই ইচ্ছা পূরণ হলো না। আমরা সরকারের কাছে বিনীত দাবি জানাই, দ্রুত যেন আমার ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। আমি যেন অন্তত একবার আমার আদরের সন্তানের মুখটি শেষবারের মতো দেখতে পারি। নাসরুল্লাহর পরিবারে স্ত্রী মাহবুব আক্তার ছাড়াও সাত বছর বয়সী ছেলে জামিল হাসান, পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে নাবিলা আক্তার এবং দুই বছর বয়সী ছেলে মো. জাওয়াদ রয়েছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির এমন আকস্মিক মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা নাঙ্গলকোটের গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বিমানবন্দর এলাকায় এমন নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসগুলোর তদারকিতে মরদেহ দ্রুত দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

Advertisement
Advertisement
বিজ্ঞাপন
Advertisement
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।