দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া কিংবা দলবদলের বাজারে নরসিংদীর রাজনীতিতে যোগ হলো এক নতুন নাটকীয়তা। নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য এবং রায়পুরা উপজেলার অলিপুরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহমেদ দুলু আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে রায়পুরা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন।
আওয়ামী লীগের এই নেতার বিএনপিতে যোগদানের বক্তব্যটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। মতবিনিময় সভায় আলী আহমেদ দুলু তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দুইবার আমাকে রাজু সাহেব (আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক এমপি ও মন্ত্রী) জোর করে ফেল করাইছে এবং আমাকে হয়রানি করেছে। আমাকে নির্বাচন অফিসে আটকিয়ে রাখা হয়েছিল।” তিনি আরও দাবি করেন, তিনি মূলত মনে-প্রাণে সব সময় বিএনপিই করতেন। মাঝের সময়টাতে কেবল ক্ষমতার ‘ব্যালেন্স’ বজায় রাখতে আওয়ামী লীগের সমর্থক হয়েছিলেন।
দুলু তাঁর বক্তব্যে বলেন, “অরিজিনালি আমি বিএনপিতে ছিলাম, অতীতে ছাত্রদল করেছিলাম। এখন আমি আমার নিজের ঘরে ফিরে আসছি। সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে আজকে আমি বিএনপিতে পুরোপুরিভাবে যোগদান করলাম। আজ থেকে দলের সব নেতাকর্মী ও এমপি-মন্ত্রীদের সঙ্গে ফুল নিয়ে দেখা করব। বাকি জীবন আমি বিএনপি করেই কাটাব।”
তবে আলী আহমেদ দুলুর এমন ভোলবদলের পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তাঁর অতীত ইতিহাস নিয়ে চলছে নানা চর্চা। স্থানীয়দের দাবি, দুলু তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি খোলস বদলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। দলটির প্রভাব খাটিয়ে এবং দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে তিনি একাধিকবার অলিপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং জেলা তাঁতি লীগের সাবেক আহ্বায়কের দায়িত্বসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। এখন ক্ষমতার পটপরিবর্তনের হাওয়া দেখে তিনি আবারও পুরোনো ‘ঘর’ ও ছাত্রদলের দোহাই দিয়ে বিএনপিতে ভিড়ছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন