বিশ্বকাপ ফুটবলের মেগা ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচে আলবিসেলেস্তেরা যদি জয়লাভ করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ট্রফি ঘরে তুলতে পারে, তবে আগামীকাল সোমবার পুরো আর্জেন্টিনায় রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করা হতে পারে। ফাইনালের মহারণ শুরুর আগেই দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের প্রশাসন এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করছে। সরকারের নীতি নির্ধারণী মহলে এই নিয়ে জোর আলোচনা ও প্রস্তুতি চলছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ক্লারিনের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে ছুটি ঘোষণার বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে ফাইনাল ম্যাচের ফলাফলের ওপর। স্পেনের বিপক্ষে লিওনেল স্কালোনির দল যদি শেষ পর্যন্ত বিজয়ের হাসি হাসতে পারে, তবে এই সাধারণ ছুটির সিদ্ধান্তটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর দেশটিতে যে অভূতপূর্ব আনন্দের বন্যা বয়ে গিয়েছিল, ঠিক তেমনি এক উৎসবের পরিবেশ তৈরি করা। সে সময় তৎকালীন আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট আলবের্তো ফের্নান্দেস জরুরি ডিক্রি জারি করে দেশব্যাপী জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছিলেন। যার ফলে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক জয় উদযাপন করার সুযোগ পেয়েছিলেন।
ছুটি ঘোষণার পাশাপাশি ট্রফি জয়ী দলটি দেশে ফেরার পর তাদের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাথে আলোচনা শুরু করেছে প্রশাসন।
আর্জেন্টিনা সরকারের চিফ অব স্টাফ দিয়েগো সান্তিই জানান যে, রাস্তায় সাধারণ মানুষের যেকোনো বড় ধরনের বিজয় উদযাপন সফল করতে সরকার নিরাপত্তা ও লজিস্টিক সহায়তার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
তবে তিনি পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন যে উদযাপনের ধরন কেমন হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পুরো স্বাধীনতা থাকবে খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফদের ওপর। সরকার তাদের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত জোর করে চাপিয়ে দেবে না। দলের পক্ষ থেকে যেভাবে উদযাপন করতে চাওয়া হবে, প্রশাসন সেটাকে পূর্ণ সম্মান ও সমর্থন জানাবে।
যদি আজ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা জয় পায়, তবে বুয়েনস আইরেসের রাস্তাঘাট আবারও ২০২২ সালের মতোই লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠবে এবং ফুটবলপ্রেমীদের এক ঐতিহাসিক গণ-উৎসবের সাক্ষী হবে পুরো বিশ্ব।
মন্তব্য করুন