ফুটবল বিশ্বে আর্লিং হালান্ড এখন এক পরিচিত ও আতঙ্কের নাম। তবে তার এই সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে বাবা আলফইঞ্জ হালান্ডের এক বেদনাবিধুর ট্র্যাজেডি এবং মাঠের ফুটবলে ছেলের নেওয়া এক মধুর প্রতিশোধের গল্প। এটি এমন এক গল্প, যেখানে কোনো রক্তপাত বা মারামারি নেই, আছে কেবল নিখাদ ফুটবলীয় শ্রেষ্ঠত্বের জবাব।
হালান্ডের বাবা আলফইঞ্জ নিজেও ছিলেন একজন লড়াকু ফুটবলার, যিনি প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটি ও লিডস ইউনাইটেডের মতো ক্লাবে রক্ষণভাগ ও মিডফিল্ড সামলাতেন। ১৯৯৭ সালে লিডস ইউনাইটেডের হয়ে খেলার সময় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি রয় কিনের সঙ্গে তার একটি সংঘর্ষ হয়। কিন ফাউল করতে গিয়ে নিজেই হাঁটুতে মারাত্মক চোট পান। আলফইঞ্জ তখন কিনকে অভিনয় করা বন্ধ করতে বলেছিলেন, যা কিন ব্যক্তিগত অপমান হিসেবে নিয়ে প্রতিশোধের অপেক্ষায় থাকেন।
ঠিক চার বছর পর, ২০০১ সালের এপ্রিলে ম্যানচেস্টার ডার্বিতে রয় কিন তার সুযোগ পেয়ে যান। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে আলফইঞ্জের হাঁটুতে বুট দিয়ে ভয়ংকর এক ট্যাকল করেন। সরাসরি লাল কার্ড পান কিন। সেই আঘাতের পর আলফইঞ্জ আর কখনোই আগের মতো মাঠে ফিরতে পারেননি। দুই হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের পর ২০০৩ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানাতে বাধ্য হন তিনি। বাবার এই অবসরের সময় আর্লিংয়ের বয়স ছিল মাত্র ৩ বছর।
বাবার ফুটবল ক্যারিয়ার রয় কিনের কারণে অকালে শেষ হলেও, নিয়তি হয়তো অন্য মহাকাব্য লিখে রেখেছিল। ২০২২ সালে আর্লিং হালান্ড তার বাবার সাবেক ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন। এরপর বাবার সেই শত্রু ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে মাঠে নেমে তিনি গোল উৎসব শুরু করেন। নিজের প্রথম ম্যানচেস্টার ডার্বিতেই তিনি দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে সিটিকে ৬-৩ ব্যবধানে জেতান। ওল্ড ট্রাফোর্ডে গিয়েও ইউনাইটেডের রক্ষণভাগ একাই ধসিয়ে দেন তিনি।
শুধু ডার্বি জয়ই নয়, ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে নিজের প্রথম মৌসুমেই হালান্ড উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, প্রিমিয়ার লিগ এবং এফএ কাপ (ট্রেবল) জেতেন। একসময় রয় কিনের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সবচেয়ে বড় অহংকার ছিল এই ট্রেবল জয়। আজ বাবা আলফইঞ্জ গ্যালারিতে বসে তৃপ্তির হাসি নিয়ে দেখেন, কীভাবে তার ছেলে সেই ইউনাইটেডের অহংকার চূর্ণ-বিচূর্ণ করে তার অকালে শেষ হওয়া ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুন্দর ও ঐতিহাসিক প্রতিশোধ নিচ্ছেন।
মন্তব্য করুন