
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সম্প্রতি হুতি বিদ্রোহীদের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। গত এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি ভূখণ্ডে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। এই হামলার পর ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে কীভাবে কার্যকর জবাব দেওয়া যায়, তা নিয়ে এখন সুনির্দিষ্ট কৌশল নির্ধারণের চেষ্টা করছে রিয়াদ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলাকে ভয়াবহ বলে অভিহিত করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।
গত সপ্তাহে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দিতে সৌদি আরব বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছিল। কিন্তু এর জবাবে হুতিরা উল্টো সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা আরও জোরদার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াজে সাম্প্রতিক এই হামলা শুধু দীর্ঘদিনের শত্রুতার জের নয়, বরং এটি ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের একটি সম্প্রসারণ। ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠীটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং তাদের কাছে উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মতো আধুনিক সমরাস্ত্র রয়েছে।
হুতিদের এই ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালেদ বিন সালমানের সামনে বিকল্প খুব সীমিত। এ বিষয়ে লেখক ও সৌদি রাজনীতির বিশ্লেষক আলী শিহাবি সিএনএনকে বলেন,
একবারের এই হুমকি চিরতরে মোকাবিলা করতে হবে। রণক্ষেত্রে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর কতটা দক্ষতা দেখাতে পারে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। আর সৌদি আরব নিজেদের বিমান হামলার সক্ষমতা দিয়ে তাদের ব্যাপকভাবে সহায়তা করছে।
ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) সহায়তায় হুতিরা নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে নিয়েছে। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্রের গাইডেন্স সফটওয়্যার তৈরির চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। বিশাল মরুভূমিজুড়ে থাকা সৌদি আরবের তেল ও জ্বালানি অবকাঠামো হুতিদের ড্রোনের সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তানের মতো মিত্রদের কাছ থেকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পেলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনো সরাসরি বিমান হামলা চালাতে সম্মত হয়নি। তবে ওয়াশিংটন নতুন যৌথ কমান্ডের অধীনে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের জন্য ১০০ জনের বেশি সামরিক উপদেষ্টা পাঠিয়েছে।
বর্তমানে সৌদি আরবের সামনে বড় প্রশ্ন হলো তারা ইয়েমেনে বড় ধরনের স্থলযুদ্ধে জড়াবে কি না। যদি রিয়াদ স্থলভাগে সেনা পাঠায়, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এতে বৈশ্বিক বিনিয়োগবান্ধব ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সৌদি আরবের যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গড়ে তুলেছেন, তা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নির্ভর করছে রিয়াদের পরবর্তী সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।