
সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক হামলার দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যা মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার পর এই ধরনের বিভ্রান্তিকর ও কৃত্রিমভাবে তৈরি দৃশ্যগুলো এক্স, টিকটক এবং ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের ফ্যাক্ট চেক দলের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোর পেছনে কোনো বাস্তব সত্যতা নেই এবং এগুলো জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার মাত্র।
গত বৃহস্পতিবার থেকে সৌদি আরবের এই প্রধান বিমানবন্দরে চালানো হামলায় অন্তত ১৬ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে হামলার মুহূর্তের দৃশ্য দাবিতে পুরোনো ও এআই-নির্মিত ভিডিও আপলোড করা শুরু হয়। তবে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও ফ্রেম-বাই-ফ্রেম পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, এই ভিডিওগুলোর সঙ্গে বাস্তব ঘটনার কোনো মিল নেই। বরং এগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বহুল চর্চিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরণের শব্দে মানুষ কাচের দরজার দিকে ছুটছে। কিন্তু বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ভিডিওটি মার্চ ২০২৫ সালের আগের এবং এতে মানুষের নড়াচড়া সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক। মেটার এআই শনাক্তকরণ টুল এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত পরীক্ষায় স্পষ্ট হয়েছে যে, ভিডিওটিতে স্পষ্ট এআই স্বাক্ষর রয়েছে। এমনকি টাইমস অব ইজরায়েলের মতো গণমাধ্যমও এই ভুয়া ভিডিওটি প্রচার করেছিল। অন্য আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানের ওপর মিসাইল আঘাত হানার দৃশ্য, যা মূলত ২০১৬ সালের একটি স্টক ছবির ওপর এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।
ফ্যাক্ট চেক বিশ্লেষণে ভিডিওগুলোতে বেশ কিছু স্পষ্ট অসঙ্গতি ধরা পড়েছে যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপস্থিতি প্রমাণ করে। গুগল জেমিনি এবং মেটার এআই টুল ব্যবহার করে দেখা গেছে যে, ভিডিওগুলোর ছবি এবং অডিওতে সিন্থআইডির মতো ওয়াটারমার্ক উপস্থিত রয়েছে। ভিডিওগুলোর দৈর্ঘ্য সাধারণত ৬ থেকে ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ দর্শকদের পক্ষে এর সত্যতা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া ভিডিওগুলোতে ঝাপসা দৃশ্য, মানুষের শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তন এবং ছায়ার অসঙ্গতি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে তৈরি এই ধরনের বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট সাইবার নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, সংঘাতের সময় এ ধরনের জেনারেটিভ এআই কনটেন্ট জনসাধারণের মাঝে আতঙ্ক ও ভুল তথ্য ছড়াতে সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেকোনো সংবেদনশীল ভিডিও শেয়ার করার আগে সেগুলোর সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন প্রযুক্তি ও সংবাদ বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।