
প্রয়োজনীয় সময়ে সাবান দিয়ে হাত না ধোয়ার সহজ অভ্যাসটির অবহেলায় নীরবে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি। খাবার খাওয়া, টয়লেট ব্যবহার কিংবা বাইরে থেকে ঘুরে আসার পর হাত জীবাণুমুক্ত না করার ফলে ডায়রিয়া ও বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদের মতে, এটি কেবল ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়, বরং পারিবারিক আর্থিক নিরাপত্তা, শ্রমের উৎপাদনশীলতা এবং জনস্বাস্থ্য ব্যয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। প্রতিরোধযোগ্য এই সংক্রমণ রোধে সচেতনতার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০২৫ অনুযায়ী, দেশের ৬৮.৬ শতাংশ পরিবারের সদস্যদের পানি ও সাবান বা ডিটারজেন্টযুক্ত হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রয়েছে, যা ২০১৯ সালে ছিল ৭৪.৮ শতাংশ। গবেষণায় দেখা গেছে, নিম্ন-আয়ের একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডায়রিয়ার একটি গুরুতর পর্বের চিকিৎসা ব্যয় সংশ্লিষ্ট পরিবারের মাসিক আয়ের প্রায় ১৭ শতাংশের সমান। এছাড়া রেস্তোরাঁ ও খাদ্যশিল্পে কর্মীদের হাত ধোয়ার সুযোগ এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হাত পরিষ্কার রাখার ঘাটতি জনস্বাস্থ্যকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
হাত ধোয়াকে শুধু ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার পরামর্শ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি পারিবারিক আর্থিক সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য, রোগীর নিরাপত্তা এবং শ্রমের উৎপাদনশীলতা রক্ষার একটি মৌলিক উপায়।
খাদ্যশিল্প এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে হাতের পরিচ্ছন্নতার অভাব মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। ২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, রেস্তোরাঁয় গ্রাহকদের হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকলেও খাবার প্রস্তুতকারী কর্মীদের জন্য সুবিধাজনক স্থানে সাবান ও পানি ছিল মাত্র ৩৩ শতাংশ ক্ষেত্রে। অন্যদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, স্বাস্থ্যসেবায় হাতের পরিচ্ছন্নতা উন্নত করতে বিনিয়োগ করলে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে সাশ্রয় করা সম্ভব। নবজাতক ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের সুরক্ষায় চিকিৎসকদের সঠিক সময়ে হাত ধোয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত।
অসুস্থতার কারণে চিকিৎসাকেন্দ্রের ব্যয় বৃদ্ধি পেলে দরিদ্র পরিবারগুলো সঞ্চয় ভাঙতে বা ঋণ করতে বাধ্য হয়। তাই কেবল সচেতনতামূলক প্রচারণার ওপর নির্ভর না করে বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রেস্তোরাঁ এবং হাসপাতালে কার্যকর হাত ধোয়ার অবকাঠামো ও নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক। জাতীয় অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তাই সঠিক সময়ে সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক তদারকি জোরদার করার বিকল্প নেই।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।