
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অবরুদ্ধ হয়ে থাকা উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বুকে ব্যথা অনুভব করার কথা জানিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে চুয়েটের উপাচার্য ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি হাসপাতালে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার পর থেকে উপাচার্যকে ভবনের ভেতরে রেখে ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ভবনের পানি ও বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়, যার ফলে উপাচার্যসহ অন্তত ১১ জন অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আগের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা কমপ্লিট শাটডাউন এবং শিক্ষক-কর্মকর্তারা কর্মবিরতি পালন করে আসছেন। নতুন উপাচার্য গতকাল শাখা ছাত্রদল নেতাদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে দপ্তরে গেলে শিক্ষার্থীরা তালা ঝুলিয়ে দেন। শিক্ষার্থীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, উপাচার্য পদত্যাগ করলেই কেবল ভবনের তালা খুলে দেওয়া হবে এবং তিনি সসম্মানে বের হতে পারবেন।
উপাচার্যের অসুস্থতার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. শাহাবুদ্দিন তাঁর দপ্তরে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, উপাচার্যের পালস ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রয়েছে এবং তাঁর বড় কোনো জটিলতা নেই। তবে এর কিছুক্ষণ পর রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা টিপুল কান্তি দে উপাচার্যকে দেখে জানান, তাঁর রক্তচাপ কিছুটা বেশি (১৫০/১০০) পাওয়া গেছে এবং তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করায় হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে উপাচার্যের দপ্তরে এই নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আহসানউল্লাহ জানিয়েছেন, তারা তাদের অসহযোগ কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে উপাচার্য ভবনের ভেতরে চরম অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছে এবং দুই চিকিৎসকের ভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য মূল্যায়নের ফলে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পরবর্তী পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন সবার নজর রয়েছে।
প্রশাসন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই মুখোমুখি অবস্থানে চুয়েটের সামগ্রিক একাডেমিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁদের অবস্থানে অনড় থাকায় এবং উপাচার্য ভবন থেকে বের হতে না পারায় সংকটের সুনির্দিষ্ট কোনো সমাধান এখনও দৃশ্যমান হয়নি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী উপাচার্যের পরবর্তী চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।