
ইয়েমেনের সানা ও তাইজ এলাকায় তীব্র লড়াইয়ের মধ্যে বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি আরব সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুতি বিদ্রোহীদের এই সংঘাতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার নতুন করে অস্থিরতার মুখে পড়েছে। এর মধ্যেই দেশটির পক্ষ থেকে বিকল্প পথে তেল রপ্তানির বার্তা দেওয়া হয়েছে। গত রোববার সানার হামদান এবং তাইজের হাইফান এলাকায় এই বিমান হামলা চালানো হয়।
ইয়েমেনের বিভিন্ন রণাঙ্গনে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে গত কয়েক দিন ধরে তীব্র লড়াই চলছে। তাইজ শহরের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে একাধিক বিমান হামলা চালায় সরকারি বাহিনী। আল কাসর ও উসাইফিরাহ এলাকায় হুতিদের পূর্ববর্তী হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হয়। অন্যদিকে তাইজের সালাহ এলাকায় বোমা হামলায় বেসামরিক নাগরিক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে দেশটিতে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
যুদ্ধের পাশাপাশি হুতিদের অব্যাহত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে রয়েছে সৌদি আরব। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহর লক্ষ্য করে ছোড়া হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আশপাশের এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
আঞ্চলিক এই উত্তেজনার মধ্যেই রিয়াদে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের বৈঠকে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান আল সৌদ। তিনি জানান, যেকোনো পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে রিয়াদ।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, আঞ্চলিক সংকটের মধ্যেও জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে দেশের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখার বিকল্প এই ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সংকটময় পরিস্থিতিতেও নিজেদের অঙ্গীকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর সৌদি আরব।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।