
ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সরাসরি নির্দেশে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ এ আজ রোববার দেওয়া এক জবানবন্দিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) উপপরিচালক মাহদী আহমদ। গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগে উপপরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সাক্ষী হিসেবে আদালতে এই জবানবন্দি দেন মাহদী আহমদ। জবানবন্দিতে তিনি জানান, তৎকালীন সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ইন্টারনেট শাটডাউনের এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বিটিআরসির এই কর্মকর্তা জানান, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই দিবাগত রাতে বিটিআরসির তৎকালীন মহাপরিচালক তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে জানান যে, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে ৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তীতে ১৬ জুলাই সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও একই রকম নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধ করা হয়েছিল। বিটিআরসির তৎকালীন চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সেই নির্দেশনা মোবাইল অপারেটরদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
জবানবন্দিতে মাহদী আহমদ আরও উল্লেখ করেন, পরবর্তী সময়ে গত ২৮ জুলাই পলকের সভাপতিত্বে বিটিআরসি কার্যালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ডিজিএফআই, এনএসআই, এনটিএমসি এবং মোবাইল অপারেটরদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে এনটিএমসির তৎকালীন মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানকে মোবাইল অপারেটরদের থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক চালুর নির্দেশ দেন পলক। একই সঙ্গে ফেসবুক, টিকটক, আকামাই ও বাইসানের ক্যাশ সার্ভার বন্ধ রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বর্তমানে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক কারাগারে আটক রয়েছেন এবং অপর আসামি সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক রয়েছেন। আজকের সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে অভিযুক্ত পলক ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। বিচারিক প্রক্রিয়ায় এই সাক্ষ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।