
ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে আসাদ আলম সিয়ামকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে ভারত সরকার। মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক সম্মতিপত্র হস্তান্তর করা হয়, যা দুই দেশের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক সম্পর্কে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগদানকারী পেশাদার কূটনীতিক আসাদ আলম সিয়াম আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নয়াদিল্লিতে বর্তমান হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হবেন। এর আগে রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ভারতের এই অনুমোদন দুই দেশের মধ্যকার যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়াকে আরও সুদৃঢ় করবে।
চলতি বছরের শুরুতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। উভয় পক্ষই বিগত সময়ের কূটনৈতিক দূরত্ব কমিয়ে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। তবে ভারতের মাটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিভিন্ন ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু স্পর্শকাতর দিক হিসেবে রয়ে গেছে। ফলে নতুন হাইকমিশনারের জন্য এই জটিল সমীকরণগুলো সামাল দেওয়া একটি বড় দায়িত্ব হবে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, দুই দেশের সম্পর্ক পুনরায় সচল করার প্রক্রিয়ায় ভারতের সাথে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংলাপের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে নতুন হাইকমিশনারকে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, আসাদ আলম সিয়ামের অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতা ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আগামী দিনে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ট্রানজিট সুবিধা এবং উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক বৈঠকের প্রস্তুতি গ্রহণের ক্ষেত্রে এই নিয়োগ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগ
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।