
নয়াদিল্লি: ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তাকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সম্প্রতি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও সিদ্ধান্তের বিষয়টি সামনে আসায় দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, যার জেরে এই চরম হুঁশিয়ারি দিল রাজনৈতিক দলটি।
ভারতের একটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে অন্য নির্বাচন কমিশনাররা জ্ঞানেশ কুমারের বেশ কিছু সিদ্ধান্তের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবে সেই আপত্তিগুলো আমলে নেওয়া হয়নি। এই প্রতিবেদনের পরই দেশজুড়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করে এবং সিইসির পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়।
বৃহস্পতিবার দিল্লির একটি সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি প্রধান অভিজিত দীপ জ্ঞানেশ কুমারের তীব্র সমালোচনা করেন এবং তাকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমার দেশের স্বার্থের পরিপন্থী কাজ করছেন এবং অবিলম্বে তার পদত্যাগ করা উচিত। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেন-জি প্রজন্মের ভাষায় একটি প্রতিবাদী মিম পোস্ট করেও আলোচনার জন্ম দেন এই রাজনৈতিক নেতা।
বিতর্কের মুখে পড়ে নির্বাচন কমিশন একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, কমিশনের ভেতরে বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক হলেও দিনশেষে সমস্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবেই গ্রহণ করা হয়েছে। তবে কমিশনারদের আপত্তি সত্ত্বেও তা পাশ কাটিয়ে যাওয়ার অভিযোগ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকেই গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে এই ধরনের প্রশ্ন ওঠার ফলে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। সিজেপির দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার পর দলটি কী ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করে, সেদিকে এখন সবার নজর রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর কড়া নজর রাখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আগামী দিনে এই সংকট কীভাবে সমাধান হয়, তা ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।