
নয়াদিল্লি: ভারতের নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং ভোটার তালিকা থেকে বড় সংখ্যক বৈধ ভোটার বাদ পড়ার ঘটনায় দেশটির গণতন্ত্র নিয়ে তীব্র আন্তর্জাতিক ও জাতীয় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জ্ঞানেশ কুমার প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে এই চিন্তার সূত্রপাত হয়। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার নির্ভীক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি তরুণ ও বৈধ ভোটারকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে।
সংবিধান অনুযায়ী মুক্ত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন গঠিত হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সাংবিধানিক সংস্থাকে ফ্যাসিবাদী নকশা বাস্তবায়নের যন্ত্রে রূপান্তর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের আইন পরিবর্তন করে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীর সমন্বয়ে বাছাই কমিটি গঠন করা হয়, যেখান থেকে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়া হয়। এর ফলে সরকার নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে এই পদে বসাতে সক্ষম হয়েছে, যা নিয়ে বিরোধী শিবির থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জ্ঞানেশ কুমারের মেয়াদে নেওয়া বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার লিখিতভাবে বিরোধিতা করেছিলেন। কমিশনারদের ফাইল নোট প্রকাশ পাওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতারিত হওয়ার অনুভূতি ও ক্ষোভ বাড়ছে।
কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্যভান্ডার তৈরি করে এবং এলাকাভিত্তিক ভোটার তালিকার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করে দেশজুড়ে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন বা ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধির পরিপন্থী এই কার্যক্রমে ১৩ কোটিরও বেশি ভারতীয় তাঁদের ভোটাধিকার হারিয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের সাম্প্রতিক অনুমোদন সত্ত্বেও এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার পরও গণহারে ভোটার বাদ দেওয়ার ঘটনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন কমিশনের এই অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণ এই দমনপীড়নের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষা করতে হলে বিতর্কিত নিয়োগ আইন বাতিল করা এবং নির্বাচন কমিশনের অস্বচ্ছ সিদ্ধান্তগুলো অবিলম্বে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় ভারতের শাসনব্যবস্থায় ফ্যাসিবাদের ভিত্তি আরও শক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।