আটকের পর রাহুল গান্ধীকে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মন্দির মার্গ থানায় নিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী থানায় গিয়ে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে দেখা করেন।
এদিকে আটক অবস্থা থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে মোদি সরকারের কাছে সুস্পষ্ট ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন রাহুল গান্ধী।
রাহুল গান্ধীর ৫ দফা দাবি: ১. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। ২. শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দেওয়া সব মামলা প্রত্যাহার। ৩. ন্যায্য বিক্ষোভ দমনে সরকারের অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা। ৪. উদ্ভূত সংকট নিয়ে সংসদে জরুরি আলোচনা। ৫. দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার।
ভিডিও বার্তায় বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রাহুল গান্ধী প্রশ্ন রাখেন, "ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা কেন ভেঙে পড়ছে? কেন বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে এবং শিক্ষা কেন এত ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে? কেন সন্তানদের পড়াতে গিয়ে পরিবারগুলো আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে?"
শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত এই লড়াইয়ের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বিরোধীদলীয় এই নেতা জানান, বিরোধী জোটের সব দলই বুধবার লোকসভা ও রাজ্যসভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা চায়।
সরকার পক্ষের পাল্টা অভিযোগ বিক্ষোভ চলাকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেন। তবে পরে তিনি অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী শুরুতে সংসদে আলোচনা চাইলেও এখন তা থেকে সরে এসে শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করছেন।
একই সুরে কংগ্রেসের কড়া সমালোচনা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি লেখেন, "সরকার এই ইস্যুতে আলোচনায় প্রস্তুত। কিন্তু কংগ্রেসের লক্ষ্য কখনোই শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান ছিল না, বরং তারা রাজনৈতিক প্রচারের জন্য অস্থিরতা সৃষ্টি করার নাটক করছে।"
মন্তব্য করুন