
স্থাপত্যক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ রিবা ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ২০২৬-এর সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশের দুটি স্থাপত্য প্রকল্প। আজ বৃহস্পতিবার দ্য রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস (রিবা) ২০২৬ সালের এই পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করে। সারা বিশ্ব থেকে চারুলিপির ভিত্তিতে মাত্র চারটি প্রকল্প এই তালিকায় স্থান পেয়েছে, যার দুটিই বাংলাদেশের। অপর দুটি প্রকল্প বেলজিয়ামের, যা রয়্যাল বেলজ ও জেড৩৩ নামে পরিচিত। প্রতি দুই বছর পরপর এই পুরস্কার দেওয়া হয় এবং এবার পঞ্চমবারের মতো এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী ১৫ অক্টোবর বিজয়ী প্রকল্পের নাম ঘোষণা করা হবে।
রিবার পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চিন্তাশীল নকশা কীভাবে মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে উন্নত করার পাশাপাশি পরিবর্তনশীল জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে, তা সফলভাবে ফুটিয়ে তুলেছে এই প্রকল্পগুলো। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সম্পর্কে রিবা উল্লেখ করেছে যে ঘনবসতিপূর্ণ নগর পরিবেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন ধরনের নকশার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ব্যাপক সবুজায়নের মাধ্যমে ক্যাম্পাসটিতে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
চিন্তাশীল নকশা কীভাবে মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে উন্নত করার পাশাপাশি পরিবর্তনশীল জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে, তা দেখিয়েছে এই প্রকল্পগুলো।
রংপুরে অবস্থিত কারুপণ্য রংপুর লিমিটেডের গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি সম্পর্কে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই কারখানাটিকে শুধু কাজের জায়গা হিসেবে নয়, বরং কর্মীদের সুস্থতা ও কমিউনিটির একটি কেন্দ্র হিসেবে নতুনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এখানে এমন কর্মপরিবেশ তৈরি করা হয়েছে যেখানে প্রাকৃতিকভাবে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে এবং কর্মীরা প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারেন। যান্ত্রিক শীতাতপনিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য এখানে বিভিন্ন পরিসর রাখা হয়েছে, যা শিল্পস্থাপত্যের ক্ষেত্রে এক অনন্য উদাহরণ।
বাংলাদেশের এই দুই স্থাপত্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেশের নির্মাণ ও নকশাশৈলীতে এক বিরাট অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই নকশার প্রয়োজনীয়তা এখন বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি উভয় প্রকল্পই পরিবেশবান্ধব উপাদান ব্যবহারের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে আধুনিক স্থাপত্য জনজীবন ও পরিবেশের সঙ্গে দারুণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। এর আগে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগের এমন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে।
আরও পড়ুন: জ্বালানিসংকটে উৎপাদন ব্যাহত হলেও পোশাক কারখানা বন্ধ হয়নি: বিজিএমইএ
পঞ্চমবারের মতো আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত বিজয়ীর মুকুট কার মাথায় ওঠে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। আগামী ১৫ অক্টোবর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার মাধ্যমে রিবা ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ২০২৬ বিজয়ী প্রকল্পের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগেই সংক্ষিপ্ত তালিকায় দুটি বাংলাদেশি প্রকল্পের এই উপস্থিতি বিশ্বমঞ্চে দেশের স্থাপত্যশিল্পের মুকুটে নতুন এক ফলক যুক্ত করল।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।