
ঐতিহ্যবাহী বাংলার সংস্কৃতির টানে পদ্মায় শুরু হয়েছে বর্ণিল নৌকাবাইচ উৎসব। ঢাকের বাদ্য আর বৈঠার ছন্দে মুখর হয়ে উঠেছে পদ্মার তীরবর্তী জনপদ। নদীর বুকে সারি সারি সুসজ্জিত নৌকা আর প্রতিযোগীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে এই উৎসব দেখতে ভিড় জমিয়েছেন হাজারো মানুষ। গ্রামবাংলার এই প্রাচীন ঐতিহ্য উপভোগ করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে এসেছেন সব বয়সী দর্শনার্থী।
উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতামূলক নৌকাগুলো। রঙিন পাল উড়িয়ে এবং নানা রঙের টিশার্ট পরে প্রতিযোগীরা অংশ নেন এই আয়োজনে। স্থানীয় আয়োজকদের মতে, বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে একে পরিচিত করতে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। নদীর শান্ত জলে বৈঠার ছন্দ আর মাঝিদের সমবেত গান এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে।
"আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি রক্ষায় এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পদ্মায় নৌকাবাইচ আমাদের শত বছরের ঐতিহ্য, যা আজও মানুষের মনে আনন্দের জোয়ার আনে।" - স্থানীয় এক আয়োজক।
নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে পদ্মাপাড়ের ব্যবসা-বাণিজ্যেও চাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে। নদীর পাড়ে বসেছে গ্রামীণ মেলা, যেখানে বিক্রি হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প, খাবার ও খেলনা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকরা তৎপর রয়েছেন। দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের নিরাপত্তার পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো যায়।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। আগামীতেও এ ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে দেশীয় সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পদ্মার বুকে এই নৌকাবাইচ উৎসব কেবল বিনোদনই নয়, বরং গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণের এক অনন্য মাধ্যম হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।