
প্রকৃতির এক অদ্ভুত নিয়মে সামুদ্রিক প্রাণী সমুদ্রঘোড়া বা সি-হর্সের ক্ষেত্রে পুরুষ সদস্যরাই সন্তান গর্ভধারণ ও জন্ম দিয়ে থাকে। নীল জলের নিচে সামুদ্রিক ঘাস ও প্রবালের আড়ালে বসবাসকারী এই ক্ষুদ্র প্রাণীটির প্রজনন প্রক্রিয়া বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিন ধরেই বিস্মিত করে আসছে। স্ত্রী সমুদ্রঘোড়া প্রজনন মৌসুমে তার ডিমগুলো পুরুষ সঙ্গীর বিশেষ প্রজনন থলিতে স্থানান্তরিত করে এবং এরপর থেকেই পুরুষ সমুদ্রঘোড়া অনাগত সন্তানের পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে।
সমুদ্রের নিঃশব্দ পরিবেশে সমুদ্রঘোড়ার জীবনযাত্রা অত্যন্ত আকর্ষণীয়। অত্যন্ত ধীরগতির এই প্রাণীগুলো নিজেদের শরীরের রঙ বদলে এবং বিশেষ ভঙ্গিমায় সাঁতার কেটে সঙ্গীর সঙ্গে বন্ধন তৈরি করে। প্রেমের এই নান্দনিক নাচের পর শুরু হয় তাদের প্রজনন অধ্যায়। প্রজাতিভেদে প্রায় দুই সপ্তাহ পর্যন্ত পুরুষ সমুদ্রঘোড়ার থলির ভেতরে ডিমগুলো সুরক্ষিত থাকে এবং ধীরে ধীরে নতুন প্রাণের বিকাশ ঘটে।
শারীরিক গঠনের দিক থেকেও সমুদ্রঘোড়া এক ব্যতিক্রমী সৃষ্টি। সামুদ্রিক এই প্রাণীর কোনো পাকস্থলী নেই, ফলে খাবার জমিয়ে রাখার কোনো সুযোগ নেই। ছোট ক্রাস্টেশিয়ান ও প্ল্যাঙ্কটনিক প্রাণী দ্রুত হজম করে ফেলার কারণে তাদের প্রতিনিয়ত খাবারের সন্ধানে শিকার করতে হয়। তাদের এই শিকার ধরার কৌশল অত্যন্ত নিখুঁত ও দ্রুতগতির।
সমুদ্রঘোড়ার মতোই তাদের নিকটাত্মীয় সি ড্রাগনও সিংনাথিডি পরিবারের সদস্য। সি ড্রাগনদের ক্ষেত্রে আলাদা কোনো থলে না থাকলেও, পুরুষ সি ড্রাগন তার লেজের নিচের বিশেষ প্রজনন থলিতে ডিমগুলো আটকে রাখে এবং সেখানেই তা বিকশিত হয়। বাবা সমুদ্রঘোড়া শুধু জন্মই দেয় না, বরং নির্দিষ্ট সময় পর নিজের শরীর সংকুচিত করে সন্তানগুলোকে নীল সমুদ্রের মুক্ত জীবনে ছড়িয়ে দেয়।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।