
ঢাকা: রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় সৎবাবাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গমেজ। রায় ঘোষণার সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় এবং সাজা পরোয়ানা দিয়ে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।
২০২৩ সালে কামরাঙ্গীরচর থানায় দায়ের করা এই মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামি ভুক্তভোগী কিশোরীর মায়ের দ্বিতীয় স্বামী এবং তাঁরা একই বাসায় বসবাস করতেন। ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে আসামি শিশুটিকে প্রথমবার ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়, যার ফলে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং সন্তান প্রসব করে। ঘটনার দিনই শিশুটির মা বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং একই বছরের ২৪ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার চলাকালীন মোট আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, দোষী সাব্যস্ত আসামি ১৩ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ করেছেন। ধর্ষণ নারীর মর্যাদার বিরুদ্ধে সবচেয়ে ঘৃণ্য অপরাধ, যা কেবল তার সম্মানই ক্ষুণ্ন করে না, বরং তার আত্মাকেও আঘাত করে। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও অপরাধের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা আদালতের দায়িত্ব।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জরিমানা অনাদায়ে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ ভিকটিম বা তাঁর আইনগত উত্তরাধিকারীকে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আইন অনুযায়ী রায় ঘোষণার তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায় এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। এ ধরনের অপরাধ দমনে সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।