
রাজধানীর বারিধারায় অনিয়ন্ত্রিত প্রাইভেটকার চাপায় মেহেদী হাসান নামে এক নির্মাণশ্রমিক নিহতের ঘটনায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে নয় লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। তবে স্থানীয় থানা পুলিশের দাবি, এই আর্থিক সমঝোতা বা রফাদফার বিষয়টি তাদের সম্পূর্ণ অজানা। গত ২২ সেপ্টেম্বর এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে এবং এই বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ঘটনার পটভূমি অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর বারিধারা এলাকায় একটি নিয়ন্ত্রণহীন প্রাইভেটকার ফুটপাতে উঠে গেলে ঘটনাস্থলেই নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান নিহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা গাড়িটিতে থাকা এক কিশোরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় এবং পুলিশ সেই মামলার ভিত্তিতে কিশোর আজান আলী শরীফকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। তবে দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির মূল চালক পলাতক থাকায় তাকে নিয়ে রহস্য রয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার সিএমএম আদালতে আটক কিশোরের জামিন শুনানিতে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোতিনি আলমগীর হোসেন চাঞ্চল্যকর এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন যে, নিহত নির্মাণশ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নয় লাখ টাকায় পুরো বিষয়টি আপস বা মীমাংসা করা হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির আসল চালক গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং আটক কিশোরটি চালকের পাশের আসনে বসা ছিল বলেও আদালতে দাবি করা হয়।
আদালত প্রাঙ্গণে রফাদফার বিষয়টি আলোচিত হলেও গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুনায়েদ নুর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে পুলিশের কাছে এমন কোনো সমঝোতার তথ্য নেই। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা মামলার ভিত্তিতে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছি। আইনগত যত প্রক্রিয়া, সব শেষ করে প্রকৃত কারণ বের করতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্তে আইনের ব্যত্যয় ঘটায় আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এছাড়া গাড়ির মূল চালক ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট আইন শৃঙ্খলা বাহিনী পলাতক চালককে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে আদালতে দাখিল করা জামিন আবেদন এবং মীমাংসার দাবির আইনি বৈধতা নিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এবং পরবর্তী আইনি মারপ্যাঁচ সড়ক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন প্রশ্ন তুলেছে, যার সুরাহা নির্ভর করছে আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার ওপর।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।