৫ আগস্টের প্রেক্ষাপট: সুপ্ত ক্ষোভ, ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও ফ্যাসিবাদের পতন
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট (যা আন্দোলনকারীদের কাছে '৩৬ জুলাই' নামে পরিচিত) সাড়ে ১৫ বছরের শেখ হাসিনা সরকারের একচ্ছত্র শাসনের পতন ঘটে। কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সূচিত অরাজনৈতিক আন্দোলন সময়ের পরিক্রমায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এক নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। কীভাবে রাজনৈতিক নিপীড়ন, ভোটাধিকার হরণ, দুর্নীতি ও সুপ্ত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছিল ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পতনে।
যেভাবে কোটা আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়:
২০২৪ সালের জুনে উচ্চ আদালতের রায়ে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের পর 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন'-এর ব্যানারে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামেন। আন্দোলনের মোড় ঘুরে যায় ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিতর্কিত মন্তব্য এবং তার পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাণ্ডবের পর। সংঘর্ষ, হতাহত এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাণহানির খবর আন্দোলনকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে দেয়। ইন্টারনেট বন্ধ এবং দেশব্যাপী কারফিউ জারি করেও আন্দোলন দমানো সম্ভব হয়নি।
এক দফা ঘোষণা ও ‘মার্চ টু ঢাকা’:
৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহাসিক সমাবেশ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করা হয়। সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ জানান, আন্দোলন দমনের কঠোর পরিকল্পনার তথ্য পেয়ে ৬ আগস্টের 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচি একদিন এগিয়ে এনে ৫ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। মাহফুজ আলমের সমন্বয়ে রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সাথে আলোচনার পাশাপাশি ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
জনস্রোত ও শেখ হাসিনার পতন:
৫ আগস্ট ভোরেই আশপাশের জেলাগুলো থেকে লাখ লাখ মানুষ ব্যারিকেড ভেঙে রাজধানীতে প্রবেশ করেন। শাহবাগ, যাত্রাবাড়ী, উত্তরাসহ পুরো ঢাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। দুপুরের দিকে সেনাপ্রধানের ঘোষণার আগেই শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ে। বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে সামরিক হেলিকপ্টারে ভারতে পাড়ি জমান তিনি। সরকার পতনের খবরে ছাত্র-জনতা রাজপথে উল্লাসে মেতে ওঠে এবং গণভবন ও জাতীয় সংসদ ভবন নিয়ন্ত্রণে নেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৫ আগস্ট কেবল একটি সরকারের পতন নয়, বরং মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও নতুন রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষার এক ঐতিহাসিক সূচনা।
মন্তব্য করুন