
সাগরের নীল জলরাশির দিকে ১ হাজার ৭০০ ফুট বাড়িয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য এখন ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে। রানওয়ে সম্প্রসারণের ফলে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর এর মতো বড় আকারের উড়োজাহাজ ওঠানামার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি নতুন আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনালও প্রস্তুত করা হয়েছে এবং চলতি অক্টোবরেই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট পর্যন্ত বিমানবন্দর উন্নয়নকাজের অগ্রগতি প্রায় ৯৯ শতাংশ এবং রানওয়ের কাজের অগ্রগতি ৯১ শতাংশের বেশি।
কক্সবাজার বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে মোট তিনটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দুটি প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও তৃতীয় প্রকল্পের নির্মাণকাজ এখনো শুরু হয়নি। রানওয়েতে ক্যাটাগরি-২ এয়ারফিল্ড গ্রাউন্ড লাইটিং (এজিএল) ব্যবস্থা এবং প্রিসিশন অ্যাপ্রোচ লাইট বসানো হয়েছে, যা প্রতিকূল আবহাওয়া বা কুয়াশার মধ্যে উড়োজাহাজ পরিচালনায় সহায়তা করবে। এছাড়া ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের টার্মিনাল ভবনে বহির্গমন লাউঞ্জে একসঙ্গে ৪৫০ জনের ধারণক্ষমতাসহ বোর্ডিং ব্রিজ, ইমিগ্রেশন ডেস্ক এবং ডিউটি ফ্রি শপের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
অক্টোবরের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের পর বিমানবন্দরটির আন্তর্জাতিক কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
কক্সবাজার বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে তৃতীয় প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দরের পশ্চিম পাশে ৬৮২ একর জমিতে নতুন অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে নতুন প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার, কার্গো কমপ্লেক্স, কনভেনশন সেন্টার এবং এভিয়েশন ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণের কথা রয়েছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের নকশা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। তবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘোষণার পরও এখন পর্যন্ত কোনো বিদেশি এয়ারলাইনস আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার আনুষ্ঠানিক আগ্রহ বা সূচি ঘোষণা করেনি। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু পর্যটকদের সম্ভাব্য আগমনের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর জন্য পর্যাপ্ত যাত্রী চাহিদা এবং বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা যাচাই করা জরুরি।
বিমানবন্দরের এই বিশাল বিনিয়োগের সুফল কতটা মিলবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতে কতটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এবং নিয়মিত যাত্রী যাতায়াত করছে তার ওপর। ঢাকায় কুয়াশার কারণে ফ্লাইট অবতরণ না করলে কক্সবাজারকে বিকল্প আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ব্যবহার করার পাশাপাশি উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ (এমআরও) এবং পাইলট প্রশিক্ষণ সুবিধা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চলতি মাসে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম চালুর পর প্রথম কয়েক মাসে কতটি ফ্লাইট যুক্ত হয় এবং তৃতীয় প্রকল্পের কাজ কত দ্রুত শুরু হয়, তার ওপর নির্ভর করবে এই বিমানবন্দরের সার্বিক সফলতা।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।