
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়ি পরিদর্শনের সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও গাড়িবহ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার সন্ধ্যায় ঘটা এই হামলার জন্য সরাসরি বিএনপিকে দায়ী করেছেন দলটির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এটি এনসিপির এই নেতার ওপর পঞ্চমবারের মতো হামলার ঘটনা বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাঁকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
রোববার রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর বারবার হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতাকে কতটা ভয় পেলে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা এতটা উন্মাদ হতে পারে? এ ধরনের দমন-পীড়ন চালিয়ে বিরোধী মতের কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
কুষ্টিয়ার এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর রাতে গণমাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠায় জাতীয় নাগরিক পার্টি। দলটির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তার জবাব হামলা বা সহিংসতার মাধ্যমে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটলে রাজনৈতিক সহিংসতার সংস্কৃতি আরও উৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে যে, দেশের যেকোনো প্রান্তে রাজনৈতিক সহিংসতা রোধে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। কুষ্টিয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ সব রাজনৈতিক নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে কাউকে বিরত রাখা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে এনসিপি।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ধরনের হামলা ও উত্তেজনার ঘটনা জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় না থাকলে এবং ঘটনার যথাযথ বিচার না হলে এই ধরনের সংঘাত দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ব্যাহত করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।