
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সব দোকানপাট, শপিং মল ও বিপণিবিতান খোলা রাখার সময়সীমা বাড়িয়েছে সরকার। এখন থেকে রাত আটটার পরিবর্তে রাত দশটা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। আজ সোমবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এক নির্দেশনায় এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। ফলে পূজার কেনাকাটায় স্বস্তি পাবেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলা রাখা যাবে। তবে ২৩ অক্টোবর থেকে দোকানপাট ও শপিং মল খোলা রাখার সময়সীমা আবার আগের নিয়মে ফিরে যাবে। অর্থাৎ ওই দিন থেকে আগের মতো বেলা ১১টা থেকে রাত আটটা পর্যন্তই ব্যবসায়ীরা বেচাকেনা করতে পারবেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বরাবর একটি চিঠি দেয় বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। চিঠিতে দুর্গাপূজার কেনাকাটার সুবিধার্থে দোকানপাট ও বিপণিবিতান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার জোর দাবি জানানো হয়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও জ্বালানি সাশ্রয়ে ব্যবসায়ীরা এতদিন রাত আটটা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখলেও পূজার বাজারে বাড়তি সময়ের দাবি জানিয়েছিলেন তারা।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির নেতারা তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সংকটকালে তারা জ্বালানি সাশ্রয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছেন। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও জ্বালানিসংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাজারে কেনাবেচা নেই বললেই চলে। এতে ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ব্যবসায়ীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। ঈদ ও দুর্গাপূজার সময় বেচাকেনা কিছুটা ভালো হয়, তাই দোকানপাট খোলা রাখার সময় বাড়ানো হলে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। - বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি
সমিতির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে লোডশেডিং অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এমন বাস্তবতায় পূজার কেনাকাটার জন্য সময়সীমা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি ছিল। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ তৈরি হলো।
উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট সরকার দোকানপাট ও বিপণিবিতান রাত আটটা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা জারি করেছিল। একই সঙ্গে সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড এবং আলোকসজ্জা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান নির্দেশনার ফলে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কেনাকাটার পরিধি কিছুটা প্রসারিত হলো যা শেষ পর্যন্ত অর্থনীতির গতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।