
ঢাকা: রাজধানী ঢাকার শাহবাগ, হাজারীবাগ, মৌচাকসহ অন্তত ৯টি স্থানে গত শনিবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় ১৩টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব বিচ্ছিন্ন বিস্ফোরণের ঘটনায় যাত্রাবাড়ী এলাকায় একজন অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন এবং কাফরুল থানার সামনে দুর্বৃত্তরা একটি ফাঁকা বাসে আগুন দিয়েছে। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে আকস্মিক ককটেল বিস্ফোরণের খবর আসতে শুরু করে। দুপুরের পর মালিবাগের সোহাগ বাস কাউন্টার, আগারগাঁও বেতার ভবন, মহাখালী, বাবুবাজার ব্রিজ, মগবাজার মোড়, যাত্রাবাড়ী, রামপুরা বিটিভি ভবন এবং ঢাকা কলেজের সামনে এসব বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে তিনটি ককটেল বিস্ফোরিত হলে অটোরিকশাচালক ইবাদুর রহমান আহত হন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ঘটনাগুলো তদন্ত করছে। জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ককটেল বিস্ফোরণগুলোতে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর রায় ঘোষণার পর থেকেই রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গতকালের ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) পুরো নগরজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রাজধানীর প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এবং উড়ালসড়কগুলোতে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশি টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি সূত্র।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।