
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে সংঘটিত ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ডিবি পুলিশ বংশাল ও ডেমরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি অবিস্ফোরিত ককটেলও উদ্ধার করা হয়, যা পরে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট নিষ্ক্রিয় করে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত আটটার দিকে, যখন যাত্রাবাড়ী থানার ঠিক সামনে পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এই আকস্মিক বিস্ফোরণে একজন অটোরিকশা চালক আহত হন। ঘটনার পরপরই পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসে এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ শুরু করে। দীর্ঘ তদন্তের ধারাবাহিকতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ডিবি ওয়ারী বিভাগের অধীনে এই সফল অভিযান পরিচালনা করে।
রোববার বেলা সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোল্লা মো. শাহীন বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মো. রায়হান উদ্দিন (৩৫), রাসেল খান (৩২), আলা উদ্দিন (২৮) ও আব্দুল্লাহ (২৮)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে তারা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যেই এই নাশকতামূলক কার্যক্রম চালিয়েছে।
"তারা আসলে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্যই এগুলো করছে এবং তাদের একটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য তো আছেই। গত দুই তিন দিনে ঢাকা শহরে বেশ কয়েক জায়গায় এমন ঘটনা ঘটেছে। এরই একটা অংশ হিসেবে যাত্রাবাড়ীতেও তারা এটা করেছে।" - মোল্লা মো. শাহীন, উপ-পুলিশ কমিশনার, ডিবি (ওয়ারী বিভাগ)।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত রায়হান উদ্দিন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের ঢাকা দক্ষিণের বংশাল থানাধীন ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর ইউনিটের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিল। সে গত বছর মতিঝিল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে পাঁচ মাস জেলহাজতে ছিল। সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়ে সে পুনরায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপে সক্রিয় হয়ে ওঠে। তার মোবাইল ফোনে পলাতক রাজনৈতিক নেতাদের যোগাযোগের প্রমাণও পাওয়া গেছে, যা নিয়ে বর্তমানে সাইবার ও গোয়েন্দা বিশ্লেষণ চলছে।
বর্তমানে আসামিদের আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া বিচ্ছিন্ন ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার সাথে এই চক্রের সুনির্দিষ্ট কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং এ ধরনের নাশকতার নেপথ্যে থাকা অন্য সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে ৮ মাসে ৯৭ খুন, ২০ হত্যার কারণ এখনো অজানা
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।