
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালা থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরিয়ে সেখানে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি টাঙানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়িয়ে মূলধারার রাজনীতিতেও আলোড়ন তৈরি করেছে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন উঠছে। ঘটনার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট মহলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
ডাকসু ভবনের নির্ধারিত প্রদর্শশালায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অভ্যুদয়, ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক বিভিন্ন ছবি ও স্মারক সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক মুহূর্তের ছবিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু সম্প্রতি হুট করেই সেই সংগ্রহশালার একটি অংশ থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নজরে আসে। পরবর্তীতে সেখানে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর একটি ছবি প্রতিস্থাপন করা হয়, যা মুহূর্তেই উপস্থিত শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে চরম বিস্ময় ও ক্ষোভের জন্ম দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। তাদের মতে, স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে এবং বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের সূতিকাগার খ্যাত ডাকসু ভবনে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর প্রধান নেতার ছবি প্রদর্শন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অজান্তেই কিংবা তাদের নীরব সমর্থনে এই ধরনের বিতর্কিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার একটি সুগভীর চক্রান্ত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডাকসু সংগ্রহশালা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের একটি অন্যতম প্রধান দলিল। এখানে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা বা বিতর্কিত ব্যক্তির ছবি স্থাপন করার মাধ্যমে ইতিহাস বিকৃতির সুযোগ নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা ডাকসু সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কেউ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেননি। কার বা কাদের নির্দেশে এবং কোন প্রক্রিয়ায় এই ছবি পরিবর্তন করা হলো, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। ক্যাম্পাসের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো অবিলম্বে জিন্নাহর ছবি অপসারণ করে সেখানে পূর্বের ঐতিহাসিক ছবিগুলো পুনঃস্থাপন করার আল্টিমেটাম দিয়েছে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ঘটনার দায় এড়াতে পারে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্যাম্পাসের সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং উদ্ভূত উত্তেজনাকর পরিস্থিতি শান্ত করতে অবিলম্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। একই সাথে ঐতিহাসিক সংগ্রহশালার পবিত্রতা রক্ষা এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জোরালো হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।