
ঢাকা: পুনর্মূল্যায়নের পর পাঁচটি করবর্ষের বিপরীতে ৬৬৬ কোটি টাকা প্রদেয় কর দাবি ঘিরে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি রিট খারিজ বা রুল ডিসচার্জ করে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায় দুটি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে একটি রায় ১৫ পৃষ্ঠার এবং অপরটি ৩২ পৃষ্ঠার। গত ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। গ্রামীণ কল্যাণের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তিনি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ছিলেন।
মূলত ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭, এই পাঁচটি করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে কর দাবি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে গ্রামীণ কল্যাণের একটি চুক্তি অনুযায়ী গ্রামীণফোনে বিনিয়োগ করা হয়। ওই চুক্তির আওতায় শেয়ার থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশের ওপর অর্জিত মুনাফার ৪২ দশমিক ৬৫ শতাংশ পায় গ্রামীণ কল্যাণ। তবে প্রাপ্ত অর্থ লভ্যাংশ আয় নাকি অন্যান্য উৎস থেকে আয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে কর কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের মতে, ওই অর্থ লভ্যাংশ হিসেবে গণ্য না হয়ে অন্যান্য উৎস থেকে আয় হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এর ওপর প্রযোজ্য কর দিতে হবে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেওয়া ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ জানান, কর কর্তৃপক্ষের দাবি করা ডিভিডেন্ড ইনকামকে অন্যান্য উৎস থেকে আয় হিসেবে গণ্য করে কর নির্ধারণের সিদ্ধান্ত আইনসম্মত ছিল। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে সরকারি কোষাগারে ওই আয়ের বিপরীতে কোনো কর জমা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি করে কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ এনে হাইকোর্ট রিটগুলো খারিজ করে দিয়েছেন।
আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের অপর একটি দ্বৈত বেঞ্চ রিট দুটি খারিজ করে রায় দিলেও পরবর্তীতে বিচারক পরিবর্তনের কারণে তা বাতিল হয়। প্রধান বিচারপতির আদেশে মামলাটি বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চে শুনানির জন্য আসে। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
৩২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের শেষাংশে আইন অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব রিট আবেদনকারীর কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ঢাকার সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারসহ বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ১৫ পৃষ্ঠার রায়ের শেষাংশে নোটিশ জারির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
এদিকে হাইকোর্টের রায়ের পর গ্রামীণ কল্যাণের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, রায়ের রায় স্থগিত চেয়ে এবং প্রত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর লিভ টু আপিল বা আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হবে। অন্যপক্ষে কর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা বলছেন, রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পরপরই আইন অনুযায়ী বকেয়া ৬৬৬ কোটি টাকা আদায়ের আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করা হবে।
আরও পড়ুন: গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা বকেয়া কর আদায়ের নির্দেশ হাইকোর্টের
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।