
রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে অতর্কিত হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথম থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং বাকি জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে দুই শতাধিক মুখোশধারী ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে দায়িত্বরত দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে এবং ভেতরে থাকা মূল্যবান চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এরপর ভারী যান্ত্রিক সরঞ্জামের সাহায্যে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবন সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
দারুসসালাম জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) এমদাদুল হক বিপুল গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার পর পরই পুলিশের একাধিক দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই বর্বরোচিত হামলার মূল হোতা ও পেছনের মদদদাতাদের খুঁজে বের করার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিরপুরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরোধ চলছিল। স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষ জায়গাটি দখলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার রাতে একটি পক্ষ সমবায় সমিতির নাম ব্যবহার করে রাতের আঁধারে অতর্কিত এই দখলদারিত্ব চালায় এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। জনবহুল এলাকায় এমন একটি জনহিতকর প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর শাহ আলী থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আলামত সংগ্রহ করেছেন। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন হামলার ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, লুট হওয়া সামগ্রী উদ্ধার এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।