
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহ আলী থানা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সংঘটিত এই হামলায় দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ। শনিবার দুপুরে শাহ আলী থানা পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তাদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেনি। ঘটনার সময় পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
১৯৭৬ সাল থেকে রাড্ডা ক্লিনিকটি সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে মুখোশ পরা ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্লিনিকে হামলা চালায়। হামলাকারীরা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভারী যন্ত্রপাতি এনে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়। এ সময় ওষুধ, ভ্যাকসিন, টিকাদান কর্মসূচির রেজিস্টার, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, ফ্রিজ, এসি ও নগদ টাকা লুট করা হয়।
এ ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় মিরপুরের বিএনপি নেতা মো. হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে হানিফ মিয়া তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
এই পুরো ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনার পরপর শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন দাবি করেছিলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কেবল উৎসুক জনতাকে দেখতে পেয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তিনি স্বীকার করেন যে, ভাঙচুরের সময় পুলিশ ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিল। পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই এত বড় হামলা ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটলেও কেন তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা হলো না, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি ওই পুলিশ কর্মকর্তা। ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা অর্থের বিনিময়ে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছে এবং তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি টিকাদান কর্মসূচির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন ধ্বংসাত্মক হামলার পর জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত মদদদাতাদের খুঁজে বের করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।