
নিউ ইয়র্ক: ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ এবং ভারত নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার নিউ ইয়র্কের ফরেন প্রেস সেন্টারে আয়োজিত এক অন-ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন। দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা এবং মার্কিন নীতি নিয়ে আয়োজিত ওই ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হলো যে, শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ পরিণতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো নির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক মতামত দেয়নি, তবে দুই প্রতিবেশীর সম্পর্কের বরফ গলাতে এই বিষয়ের সুরাহা জরুরি বলে মনে করছে হোয়াইট হাউসের পররাষ্ট্র দফতর।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জানান, আমরা বুঝতে পারছি যে শেখ হাসিনার বিষয়টি ভারত ও বাংলাদেশের বৈরিতার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আমরা আশা করছি, তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে।
ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হলে মার্কিন কর্মকর্তা জানান যে, এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত একান্তভাবেই বাংলাদেশ সরকারকে নিতে হবে। মার্কিন প্রশাসন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে চায় না। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি বিএনপির সঙ্গেও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ, ভারত ও চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কূটনীতি প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, কোনো দেশকে এককভাবে বেছে নেওয়ার চাপ তারা সৃষ্টি করছে না, বরং একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় নির্ভরযোগ্য বিকল্প অংশীদার হতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন এই অবস্থান দক্ষিণ এশীয় ভূরাজনীতিতে ওয়াশিংটনের সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার বর্তমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রশাসনের এই বক্তব্য দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে অন্তর্বর্তী সরকার এই বার্তার আলোকে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টেবিলে কীভাবে আলোচনা এগিয়ে নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।