
বিচার বিভাগে সরকারের নানামুখী হস্তক্ষেপের কারণেই বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই অভিযোগ করেন। বিমানবন্দর এলাকার অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করায় তাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেন জামায়াত নেতা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে পরিকল্পিতভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের নির্দেশ ছাড়া এ ধরনের ঘটনা ঘটা সম্ভব নয়। মূলত জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়ার আক্রোশ থেকেই তাকে এই হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিমানবন্দর ট্রলি সংকট ও লাগেজ পেতে দীর্ঘসূত্রিতার মতো বিষয় নিয়ে কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করার পরই তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়।
বিমানবন্দরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জামিনযোগ্য মামলায় আদালতে তার জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পেছনে স্পষ্ট রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ রয়েছে। ৭৫ বছর বয়সী অসুস্থ এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কারাগারে ডিভিশন এবং সুচিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না।
গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সরকারের একজন মন্ত্রী মধ্যরাতে বিমানবন্দরে গিয়ে অসত্য তথ্য দিয়ে শপথ ভঙ্গ করেছেন। দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং অব্যবস্থাপনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা কর্মকর্তার মাধ্যমেই আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য করা হয়েছে। এছাড়া আদালতে আইনজীবীদের একটি অংশ মব সৃষ্টি করে আখতারুজ্জামানের আইনজীবীদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ফ্যাসিবাদী আমলের মতো আদালতে এই ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির তীব্র নিন্দা জানান জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান একজন বয়োবৃদ্ধ ও সম্মাননীয় ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তাকে হাতকড়া, হেলমেট ও জ্যাকেট পরিয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছে। অবিলম্বে তার আইনি অধিকার নিশ্চিত করে ডিভিশন প্রদান এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারাও রেমিট্যান্স শাটডাউনের মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে বলে সতর্ক করা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।