
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বৈরিতা ও উত্তেজনা এবারও ছড়িয়ে পড়েছে সুদূর আমেরিকার রাজপথে, যেখানে নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসসহ বিভিন্ন প্রবাসীর এলাকায় মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। প্রতি বছরের মতো এবারও সরকারপ্রধানের আগমনকে কেন্দ্র করে একপক্ষ স্বাগত জানাতে এবং অন্যপক্ষ তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় এবারও জাতিসংঘ অধিবেশনকে ঘিরে প্রবাসীদের রাজনৈতিক তৎপরতা চরমে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২১ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানানো এবং ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সামনে শান্তি সমাবেশ করার পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। তবে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো ধরনের ব্যয়সংকোচন নীতির কারণে এবার নাগরিক বা দলীয় কোনো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন না সরকারপ্রধান। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর প্রতিহত করতে এবং বিমানবন্দরে ও জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘোষণা দিয়ে ইতিমধ্যে সংবাদ সম্মেলন ও সভা-সমাবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ।
স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিগত বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে সাধারণ প্রবাসীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। বিশেষ করে গত বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমানবন্দরে উদ্ভূত বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে এবার স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় করে দলীয়ভাবে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। তবে প্রবাসীদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, বিদেশের মাটিতে এই ধরনের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি এবং হাতাহাতির ঘটনা বিশ্বমঞ্চে দেশের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে।
নিউ ইয়র্কের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে রাজনৈতিক হানাহানি ও স্লোগানের এই সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের সামনে দেশের রাজনীতির একটি নেতিবাচক উদাহরণ তৈরি করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিদেশের মাটিতে রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকতেই পারে, তবে তা যেন কোনোভাবেই বিশৃঙ্খলা বা সংঘাতে রূপ না নেয়। সিনিয়র সাংবাদিক ও দেশ সম্পাদক মিজানুর রহমান মানবজমিনকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখ করেছেন যে, সরকারপ্রধানের জাতিসংঘে যোগদান একটি স্বাভাবিক রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম হলেও প্রবাসীরা একে অতিরিক্ত আবেগ ও সংঘাতে পরিণত করেন, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সংক্ষিপ্ত এই সফরে দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন প্রবাসীরা।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।