সংসদ সচিবালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গত ১৯ জুলাই ব্যাংককে গিয়েছিলেন স্পিকার। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই (রোববার) তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুকে কেন্দ্র করে তিনি সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার বেলা ১২টা ১০ মিনিটে দেশে ফিরছেন।
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পিকারের এই আকস্মিক ফেরা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে তাকে স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র জমা দিতে হয়। তাই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি চূড়ান্ত হলে স্পিকারের দেশে উপস্থিতি অত্যাবশ্যক।
এছাড়া সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকারই ভারপ্রাপ্ত বা অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদই এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
তবে স্পিকার সাময়িকভাবে এই দায়িত্ব গ্রহণ করলেও, সংবিধানের ১২৩ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক। দেশের এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে স্পিকারের দেশে ফেরার দিকেই এখন নজর রাখছে পুরো রাজনৈতিক মহল।
মন্তব্য করুন