আমরা অনেক সময় ইবাদতকে পার্থিব কাজের মতো একটি রুটিন কাজ হিসেবে বিবেচনা করি, কিন্তু এর পেছনে সেই উদ্দীপনা থাকে না। এর মূল কারণ হলো ইবাদতের তাৎক্ষণিক ফল না দেখা। তাই সবার আগে ইবাদত সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে।
দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ শুধু একটি বাধ্যবাধকতা নয়, এটি আমাদের নিজের কল্যাণের জন্যই। এটি আমাদের রবের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে এবং ক্লান্ত মনকে প্রশান্তি ও শক্তি জোগায়। নামাজকে শক্তির উৎস হিসেবে দেখতে পারলে আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এর দিকে ছুটে যাব।
বর্তমান সময়ে আমরা প্রতিনিয়ত নানা ভাবনা ও বিনোদনে ডুবে থাকি। আমাদের জীবনে নিস্তব্ধতা বা বিশ্রামের সময় নেই বললেই চলে। এই অবস্থায় ইবাদত হতে পারে আমাদের নিজস্ব ব্যস্ততা থেকে এক চিলতে নিরাপদ আশ্রয়।
যান্ত্রিকভাবে শুধু নিয়ম পালন না করে সেজদার সময় রবের সঙ্গে হৃদয়ের সংযোগ অনুভব করার চেষ্টা করতে হবে। এই আত্মিক সংযোগ স্থাপন করতে পারলে নামাজ আর কেবল একটি দায়িত্ব থাকবে না, বরং এটি আমাদের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে পরিণত হবে।
ইবাদতকে গুরুত্ব দেওয়ার অর্থ এই নয় যে দুনিয়ার কাজকর্ম বা পারিবারিক দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে। পরিবার, সন্তান ও মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব পালন করাও ইবাদতেরই অংশ, যদি এর পেছনে সঠিক নিয়ত ও আন্তরিকতা থাকে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে সারাদিন আল্লাহকে স্মরণ করার নিয়ত করা এবং প্রতিটি কাজের মাঝেই রবের সঙ্গে সংযোগ অনুভব করার চেষ্টা করা উচিত। যখনই মনে হবে সংযোগ দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, তখনই নিয়তটি নতুন করে ঝালিয়ে নিতে হবে।
ইবাদতের ক্ষেত্রে নিজের ক্ষমতা ও সীমানা সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। ইসলামি অনুশাসনে থাকা সব নফল ইবাদতই যে সবাইকে করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই।
কারও যদি নফল রোজা রাখতে সুবিধা হয়, তবে তিনি রোজা রাখতে পারেন। আবার কারও কাছে রোজা কঠিন মনে হলে তিনি দান-সদকা, তাহাজ্জুদ নামাজ বা বেশি বেশি দরুদ পাঠের মতো আমলগুলো বেছে নিতে পারেন। দয়াময় রবের নৈকট্য লাভের জন্য নিজের ওপর জোরপূর্বক অতিরিক্ত বোঝা না চাপিয়ে, যে আমলটি সহজ সেটিই নিষ্ঠার সঙ্গে করা উচিত।
ইবাদত যেন কোনো প্রতিযোগিতার বিষয় বা বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়, সেজন্য অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করা বন্ধ করতে হবে। প্রতিটি মানুষের শক্তি ও দুর্বলতার জায়গা ভিন্ন।
নিজেকে ধীরে ধীরে উন্নত করার চেষ্টা করুন। যেমন—কোরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে শুরুতে দিনে এক পৃষ্ঠা পড়লে পরে তা দুই পৃষ্ঠায় উন্নীত করার চেষ্টা করুন। যখন এটি অভ্যাসে পরিণত হবে, তখন পরিমাণ আরও বাড়াতে পারেন। মনে রাখবেন, পরিমাণে অল্প হলেও যে আমলটি নিয়মিত করা হয়, আল্লাহ তায়ালা সেটিকেই বেশি ভালোবাসেন।
মন্তব্য করুন