আদালত ও দুদক সূত্রে জানা যায়, মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছিল দুদক। অনুসন্ধানে তার নামে এক কোটি ২৩ হাজার টাকার বেশি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের খোঁজ মেলে, যার বিপরীতে বৈধ আয়ের প্রমাণ পাওয়া যায় মাত্র ১০ লাখ টাকার। অবৈধভাবে অর্জিত প্রায় ৯০ লাখ ২৩ হাজার টাকার সম্পদের বিষয়ে ২০১৯ সালে দুদক তাকে নোটিশ দিলেও তিনি নির্ধারিত সময়ে সম্পদ বিবরণী জমা দেননি। পরবর্তীতে সব তথ্য-প্রমাণ সাপেক্ষে ২০২০ সালের ১০ আগস্ট মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বৈধ করার জন্য অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছিলেন আসামিরা। ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে বাবা আবুল বশর ২০ লাখ টাকায় একটি জমি কেনেন এবং মাত্র তিন মাস পর সেটি বড় ছেলে আব্দুল্লাহকে ‘হেবা’ বা দানপত্র হিসেবে হস্তান্তর করেন। আদালত এই হস্তান্তরকে অবৈধ সম্পদ বৈধ করার অপরাধমূলক যোগসাজশ হিসেবে চিহ্নিত করে বাবাকেও দণ্ডিত করেছেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন জানান, মাত্র সাত কর্মদিবসের মধ্যে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মামলাটির বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত আব্দুল্লাহ ও তার বাবা আবুল বশর আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেছেন বিচারক। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই রায় ঘোষণাকে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিরুদ্ধে একটি শক্ত আইনি বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
মন্তব্য করুন