হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা একে ‘রিংগিং সিনড্রোম’ নামেও অভিহিত করেছেন। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, স্মার্টফোনে আসক্ত অন্তত ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ মানুষের এই সিনড্রোম রয়েছে। অনেকে আবার ফোন না বাজলেও কাল্পনিক রিংটোন শুনতে পান। তবে এটি কোনো মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ নয়, বরং দিবারাত্র ডিজিটাল মাধ্যমে ডুবে থাকার কারণে ঘটে যাওয়া এক প্রকার শব্দবিভ্রম।
মস্তিষ্ক কেবল ইন্দ্রিয় থেকে আসা তথ্যের ওপর নির্ভর করে না, এর নিজস্ব অনুমান করার ক্ষমতাও রয়েছে। ফ্রন্টাল কর্টেক্স এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব পালন করে। যখন কেউ কোনো কল বা মেসেজের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন, তখন মস্তিষ্ক ধরে নেয় যে ফোন বা মেসেজ আসবে। দীর্ঘ অপেক্ষায় অবচেতনে সেই সংকেত মস্তিষ্ক থেকে আসার ফলে ইন্দ্রিয়ের বোঝার ভুল হয়।
এছাড়া মস্তিষ্কের সোমাটোসেন্সরি কর্টেক্স এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। যিনি দিনরাত ডিজিটাল মাধ্যমে ডুবে থাকেন, তাঁর মস্তিষ্কে এক ধরনের মানচিত্র তৈরি হয়ে যায়। রিংটোন কখন বাজবে বা নোটিফিকেশন কখন আসবে—এই চিন্তায় সোমাটোসেন্সরি কর্টেক্সের স্নায়ুগুলো সর্বদা উদ্দীপিত থাকে। ফলে অলস মুহূর্তে ত্বকের স্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটলেও মস্তিষ্ক তাকে ফোনের পরিচিত ভাইব্রেশন প্যাটার্ন বলে ভুল করে।
ফোন না বাজলেও হঠাৎ রিংটোন বাজছে বলে মনে হওয়াকে ‘অডিটরি প্যারিডোলিয়া’ বলা হয়। মস্তিষ্কের অডিটরি কর্টেক্স অস্পষ্ট ও অর্থহীন শব্দের মধ্যে নিজের পরিচিত অর্থপূর্ণ সুর খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করে, যার ফলে এই শ্রবণবিভ্রাট ঘটে। গবেষকেরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, স্মার্টফোনের অত্যধিক আসক্তি মানুষের চিন্তাভাবনা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও সৃজনশীলতা বদলে দিচ্ছে। এর পাশাপাশি উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা এবং ব্রেন ফগের মতো সমস্যাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
মন্তব্য করুন