রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দুদকের মহাপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী এসব কথা জানান।
গণমাধ্যমই একমাত্র ভরসা! দুদকের মহাপরিচালক জানান, বেনজীর আহমেদের জামিন ও মুক্তির বিষয়টি তারা কেবল পত্রপত্রিকা এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমেই জেনেছেন। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, "আইনগতভাবে আমাদের যা যা করার প্রয়োজন, দুদক তার সবকিছুই করবে।"
একই দিনে দুদকের নতুন সচিব হিসেবে যোগ দিয়েছেন মো. সাইদুর রহমান খান। দায়িত্ব গ্রহণের দিনেই তিনি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, "টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে দুর্নীতিকে চিরতরে নির্বাসনে পাঠাতে হবে।"
যেভাবে থমকে আছে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত বেনজীরের জামিন মঞ্জুর করে এবং সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৩০ জুলাই তিনি কারামুক্ত হন।
এর আগে গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) বেনজীরকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি বাংলাদেশের এনসিবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল। এরপর ১৬ জুন বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইংরেজি ও আরবি ভাষায় দুই ধরনের প্রত্যর্পণ প্রস্তাবনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায় দুদক। নিয়ম অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন পাঠানোর কথা ছিল।
বেনজীরের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় ইন্টারপোলের 'রেড নোটিশ' ভুক্ত আসামি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট ৬টি মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। এর মধ্যে তার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি টাকারও বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং এবং জালিয়াতির গুরুতর সব অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়:
বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ২ কোটি ৬২ লাখ ৮৯ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করেছেন।
প্রায় ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার সম্পদের কোনো বৈধ উৎস তিনি দেখাতে পারেননি।
ঢাকা, গাজীপুর, গোপালগঞ্জ, বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার নামে প্রায় ৩৪৫ বিঘা জমি এবং অঢেল সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে দুদক।
পাসপোর্ট জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য অবৈধ সম্পদের পাশাপাশি বেনজীরের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতিরও মামলা রয়েছে। ডিআইজি এবং পরবর্তীতে র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত থাকার সময় তিনি সরকারি চাকরিজীবী হওয়ার পরও পাসপোর্টের আবেদন ফরমে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে পেশা হিসেবে ‘প্রাইভেট সার্ভিস’ উল্লেখ করেছিলেন। বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র ছাড়াই ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি সাধারণ ও ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন।
সব মিলিয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা যেমন দীর্ঘ, তেমনি তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করাও এখন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য এক বড় পরীক্ষা।
মন্তব্য করুন