
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলির সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং দায়িত্বরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার সংঘটিত এই ঘটনার পর শনিবার ঢাকার আদালত তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। বিমানবন্দর এলাকায় সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং প্রকাশ্যে কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ১ অক্টোবর, যখন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে প্রকাশ্যে হুমকি দেন আখতারুজ্জামান। এ সময় তিনি বলেন, আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা এবং ঘাড় ধরে বের করে দিবো। উল্লেখ্য, বিদেশ সফর শেষে ফেরার দিন এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। বিমানবন্দরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা রয়েছে এবং এই ঘটনার পর গত শুক্রবার রাতে বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সেবা বাড়ানোর কঠোর নির্দেশ দেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী মন্তব্যের জন্য বরাবরই আলোচিত ব্যক্তিত্ব মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। ১৯৫১ সালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় জন্ম নেওয়া এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালে দলটির সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে বিএনপি থেকে তাঁকে পাঁচবার বহিষ্কার করা হয়। গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি আকস্মিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। এর আগে বিভিন্ন সময়ে জামায়াত সম্পর্কে কঠোর সমালোচনামূলক বক্তব্য দিলেও তাঁর এই দলবদল রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের রাজনৈতিক জীবন এবং টেলিভিশন টক শোতে তাঁর উপস্থিতি নানা সময়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিগত সরকারের আমলেও তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। ২০২৩ সালের জুনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্টের অনুমতির আবেদন করা এবং বিভিন্ন সময়ে জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার রেকর্ড রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ও তিনি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরোধিতা করে বিভিন্ন টক শোতে বক্তব্য দেন। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তাঁর জামায়াতে যোগদান এবং বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে থাকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা দেখা গেছে। বিশেষ করে সাবেক ছাত্রনেতা ও অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আদালতের রিমান্ড আদেশের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বিভিন্ন দলের সঙ্গে তাঁর ওঠাবসা ও বিতর্কিত ভূমিকার কারণে এই মামলা এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং আদালতের রায়ের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট সবার।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।