
বরগুনা: বরগুনার দুটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের আগে ও খাওয়ার পূর্বে নিয়মিত হাত ধোয়ার অনন্য অভ্যাস গড়ে উঠেছে। জেলার সানবীম ও এফএম স্কুল নামের এই প্রতিষ্ঠান দুটিতে শিক্ষকদের নির্দেশনায় শিক্ষার্থীরা এখন শুধু স্কুলেই নয়, বরং বাড়িতেও এই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে। যার ফলে স্কুল দুটিতে অসুস্থতাজনিত কারণে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হারও উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। তবে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলগুলোর এমন ইতিবাচক চিত্র দেখা গেলেও জেলার অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বিপরীত। সেখানে ওয়াশ ব্লক অকেজো থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের।
প্রতিষ্ঠান দুটির শিক্ষক ও অভিভাবকদের তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের সুস্থ ও রোগমুক্ত রাখার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থেকেই হাত ধোয়ার এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। পৌরশহরের কলেজ রোড এলাকায় অবস্থিত সানবীম ও এফএম স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, ক্লাসরুমের দরজার পাশে ও বারান্দায় সচেতনতামূলক বার্তার পাশাপাশি হাত ধোয়ার জন্য একাধিক বেসিন ও সাবানের ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা স্কুলে প্রবেশ করেই এই নিয়ম মেনে চলছে। শিক্ষকদের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন অভিভাবকরাও। সানবীম স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতিহা বিনতে নাজমুল জানায়, বাসা থেকে স্কুলে আসার পর বিভিন্ন বস্তুর সংস্পর্শে হাত জীবাণুমুক্ত রাখতে তারা নিয়মিত ক্লাস শুরুর আগে ও খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়।
শিক্ষার্থীদের এমন স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে সানবীম স্কুলের অধ্যক্ষ কাজী সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, শিশুদের সুস্থ রাখতে আমরা সবসময় হাত ধোয়ার বিষয়টিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। বছরের শুরু থেকেই নতুন শিশুদের এই চর্চায় অভ্যস্ত করা হয়। এর ফলে আমাদের স্কুলে শিক্ষার্থীরা জীবাণুমুক্ত থেকে সুস্থ থাকছে এবং অনুপস্থিতির হারও কমেছে। একই সুর শোনা গেছে চিকিৎসকদের কণ্ঠেও। বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের মেডিকেল অফিসার ডা. শায়লা আক্তার জানান, ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি ও চর্মরোগের মতো অধিকাংশ সংক্রমণ হাত ধোয়ার মাধ্যমে সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই চিকিৎসা নেওয়ার চেয়ে রোগ প্রতিরোধে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
বেসরকারি স্কুলের এমন সাফল্যের বিপরীতে বরগুনার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। জেলার অনেক বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে তা অকেজো ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। বরগুনা পৌর শহরের জিলা স্কুল-সংলগ্ন বরগুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পুলিশ লাইন কালীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লক থাকলেও পানি সরবরাহ না থাকায় তা বন্ধ রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে বোতলে করে সীমিত পানি নিয়ে আসতে হয়, যা দিয়ে হাত ধোয়ার কোনো সুযোগ থাকে না।
আমাদের স্কুলের বাচ্চারা পানির অভাবে হাত ধোয়া তো দূরের কথা, প্রয়োজনীয় পানিসংকটেও ভোগে। ওয়াশ ব্লক থাকলেও পানি না থাকায় তা কোনো কাজে আসছে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিলে শিশুরা স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে। - স্বপন কুমার শীল, সহকারী শিক্ষক, পুলিশ লাইন কালীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লকগুলোর বর্তমান অবস্থা ও সংস্কারের বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ছালেহ জানান, পিইডিপির বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এই ওয়াশ ব্লকগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল। নির্মাণের ধারাবাহিকতায় যেগুলো পুরোনো হয়েছে, সেগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে মেরামতের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে খুব দ্রুত এসব অকেজো ওয়াশ ব্লক সংস্কারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।