
শেরপুর: শেরপুর সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে একদল পাগলা কুকুরের আকস্মিক আক্রমণে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ৮০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভাতশালা, লছমনপুর ও চরশেরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এই ধারাবাহিক আক্রমণের ঘটনা ঘটে। হঠাৎ এমন পশুপালের তাণ্ডবে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে একদল উগ্র কুকুর হঠাৎ করেই সদর উপজেলার জনবহুল এলাকাগুলোতে চড়াও হয়। পথচারী থেকে শুরু করে ঘরের বাইরে থাকা শিশু ও নারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় কুকুরগুলো। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই তাণ্ডবে প্রায় ৮০ জন আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন সাহসিকতার সাথে এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন এবং দ্রুত শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। দুপুর ২টা পর্যন্ত কুকুরের এই আক্রমণ অব্যাহত ছিল বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন মামুন মিয়া (৩৫), আবুল হোসেন (৬০) এবং আইজউদ্দিন (৭০)। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে জলাতঙ্কের টিকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আহতদের চিকিৎসাসেবা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মাহমুদুল হাসান সোহাগ জানান, কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে যারা হাসপাতালে এসেছেন, তাদের প্রত্যেককে জরুরি ভিত্তিতে জলাতঙ্কের টিকা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে জলাতঙ্কের টিকার সরবরাহ রয়েছে, তাই অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে কোনো সমস্যা হয়নি। তবে হঠাৎ এমন গণআক্রমণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আরও পড়ুন: হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৬ মৃত্যু, নতুন রোগী ১৩১৮
স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষকে এ ধরনের আকস্মিক আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এবং বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।