
দুর্নীতির মামলায় চট্টগ্রাম ওয়াসার বরখাস্তকৃত গাড়িচালক তাজুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী খাইরুন নেসাকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় উভয় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দুদক ও আদালত সূত্রে জানা যায়, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এই রায় দেন আদালত।
২০২২ সালের ৫ মার্চ তাজুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চলতি মাসের শুরুতে আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তদন্তে উঠে আসে যে, স্বামীর অবৈধ আয়কে বৈধ রূপ দিতে স্ত্রীকে পোলট্রি খামারি হিসেবে দেখানো হয়েছিল, যদিও তাঁর আয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো বৈধ উৎস ছিল না।
মামলার বিবরণে জানা যায়, নগরের রৌফাবাদ এলাকায় ২০০২ সালে ৩ শতক জায়গা কিনে পাঁচতলা বাড়ি নির্মাণ করেন তাজুল ইসলাম। ওই বাড়িতে ১৭টি ফ্ল্যাট রয়েছে। দুদক তদন্ত করে দেখে যে, বাড়িটির নির্মাণ ব্যয় ২৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা দেখানো হলেও প্রকৃত ব্যয় ছিল ৩৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এ ছাড়া স্ত্রীর নামে ব্যাংকে নগদ টাকাসহ মোট ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে তাজুলের স্ত্রীর নামে প্রায় ৫৯ লাখ ৮৯ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ আবিষ্কৃত হয়।
দুদকের কৌশলী মোকাররাম হোসেন জানান, আইনগত প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য প্রমাণ পর্যালোচনার মাধ্যমেই আদালত এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছেন। সরকারি চাকুরিতে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কীভাবে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়া হয়েছে, তা এই মামলায় স্পষ্ট হয়েছে। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. সাহেদ নিশ্চিত করেছেন যে, রায় ঘোষণার পর নিয়মানুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এই রায়ের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের দুর্নীতি দমন এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া হলো। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।