|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

মোবাইল ব্যালান্স বাড়ানো হচ্ছে ৫০০ টাকা পর্যন্ত, ফি দিতে হবে ১০ টাকা

0 শেয়ার
মোবাইল ফোনে ইমার্জেন্সি ব্যালান্স বা জরুরি ঋণ নেওয়ার সুবিধা বাড়াচ্ছে অপারেটরগুলো।
মোবাইল ফোনে ইমার্জেন্সি ব্যালান্স বা জরুরি ঋণ নেওয়ার সুবিধা বাড়াচ্ছে অপারেটরগুলো।
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • মোবাইল অপারেটরগুলো ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সর্বোচ্চ সীমা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
  • বিটিআরসি ও অ্যামটবের সভায় ২০০ থেকে ৫০০ টাকার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ টাকা ফি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
  • প্রতিদিন দেশের চার অপারেটরের প্রায় ৩৫ লাখ গ্রাহক এই জরুরি সেবা গ্রহণ করেন।

মুঠোফোনের রিচার্জ করা ব্যালান্স বা ইন্টারনেটের ডেটা শেষ হয়ে গেলে গ্রাহকদের জন্য চালু থাকা ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সর্বোচ্চ সীমা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে মোবাইল অপারেটরগুলো। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ কমিশন সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। অপারেটরদের দেওয়া এই নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ৫০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের জন্য সেবা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা এবং এর সঙ্গে প্রযোজ্য কর যুক্ত হবে। বর্তমানে গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ঋণ দিতে পারে, যার জন্য করসহ মোট ফি দিতে হয় ২ টাকা ৭৮ পয়সা। আর রাষ্ট্রীয় অপারেটর টেলিটক ৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারে।

এআই দিয়ে ছবি তৈরি কি শিল্প নাকি নকলবাজি

ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সীমা বাড়ানোর এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে গ্রাহকদের পরিবর্তিত ডিজিটাল চাহিদা ও বড় অঙ্কের প্যাকেজ কেনার প্রয়োজনীয়তা। ২০১৯ সালে যখন এই সেবা চালু করা হয়েছিল, তখন এর উদ্দেশ্য ছিল মূলত জরুরি প্রয়োজনে গ্রাহককে সামান্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া। তবে বর্তমানে ইমার্জেন্সি ব্যালান্স কেবল টাকা ধার নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর আওতায় মিনিট লোন, ডেটা লোন, বাই নাও পে লেটার এবং প্যাক কেনার মতো বিভিন্ন আধুনিক সুবিধাও যুক্ত হয়েছে। মোবাইল অপারেটর সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের চার অপারেটরের ১৯ কোটির বেশি গ্রাহকের মধ্যে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৫ লাখ গ্রাহক এই জরুরি ব্যালান্স নিয়ে থাকেন। তবে এই ঋণ সরাসরি অপারেটররা না দিয়ে অংশীদারত্বে থাকা অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে প্রদান করা হয়।

অপারেটরদের যুক্তি অনুযায়ী, অনেক সময় গ্রাহকের হাতে থাকা ২০০ টাকা ইমার্জেন্সি ব্যালান্স দিয়ে ৩১০ টাকার মতো বড় প্যাকেজ কেনা সম্ভব হয় না। ব্যালান্সের সীমা ৫০০ টাকা হলে গ্রাহক প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো বড় দামের প্যাকেজ সহজে কিনতে পারবেন।

ইমার্জেন্সি ব্যালান্স সীমা বৃদ্ধির পেছনের বিতর্ক ও প্রস্তাব

ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবটি মূলত প্রথম নিয়ে আসে গ্রামীণফোন। গত ২০২৬ সালের মার্চ মাসে বিটিআরসিকে চিঠি দিয়ে তারা সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা ব্যালান্স দেওয়ার অনুমতি চায় এবং এর জন্য ২০ টাকা ফি প্রস্তাব করে। তবে অন্যান্য অপারেটররা এতে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি ও অনাদায়ি ঋণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে আপত্তি জানায়। পরবর্তীতে বিটিআরসির নির্দেশে মোবাইল অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটব গত জুলাই মাসে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স দেওয়ার একটি অভিন্ন প্রস্তাব জমা দেয়। গত আগস্ট মাসে বিটিআরসি ও অ্যামটবের যৌথ সভায় ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্সের বিপরীতে সর্বোচ্চ ১০ টাকা ফি নির্ধারণের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় অধিকাংশ পক্ষ। তবে বাংলালিংক ব্যালান্সের পরিমাণ অনুযায়ী ধাপে ধাপে ফি নির্ধারণের ভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

বিশেষজ্ঞরা মোবাইল অপারেটরদের এই ধরনের আর্থিক সেবামুখী উদ্যোগ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন এই বিষয়ে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে জরুরি শব্দটির মূল অর্থই পরিবর্তিত হয়ে যাবে। অপারেটরগুলোর মূল মনোযোগ অর্থলগ্নির দিকে না দিয়ে সেবার মান বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং গ্রাহকদের বিভিন্ন অভিযোগের দ্রুত সমাধান করা উচিত। এই ধরনের বর্ধিত ঋণ সুবিধা দেওয়ার পরিবর্তে অপারেটরদের উচিত কলরেট কমানোর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিটিআরসির চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে গ্রাহকদের খরচ এবং সেবা গ্রহণের ধরণ উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

Advertisement
Advertisement
বিজ্ঞাপন
Advertisement
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।