|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

বাংলাদেশের অবকাঠামো প্রকল্পে বাড়ছে ব্যয়, মিলছে কি সুফল?

0 শেয়ার
বাংলাদেশের অবকাঠামো প্রকল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রম
বাংলাদেশের অবকাঠামো প্রকল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রম
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্বল প্রস্তুতি ও ধীরগতির কারণে সরকারি অর্থের ওপর চাপ বাড়ছে।
  • সঠিক প্রকল্প বাছাই এবং বিদ্যমান নিয়মের কার্যকর প্রয়োগের তাগিদ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
  • স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর অর্থায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবকাঠামো বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও বড় ও জটিল প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুর্বল প্রস্তুতি, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ঘাটতি এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রকল্পগুলোর নির্ধারিত ব্যয় ও সময় দুটোই বাড়ছে। এর ফলে সরকারি অর্থের ওপর চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয়ের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। সম্প্রতি সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও অর্থনীতিবিদ ফাহমিদা খাতুন দেশের অবকাঠামো খাতের এসব চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

ব্যাংককে শুরু বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ সভা, আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্য সংকট

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য অনুযায়ী, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর আর্থিক বাস্তবায়নে দীর্ঘকাল ধরেই ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আর্থিক বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এই হার ছিল মাত্র ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থ ব্যয়ের এই ধীরগতি সামগ্রিক প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দুর্বলতারই স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

"সীমিত সম্পদ নিয়ে অতিরিক্ত প্রকল্প হাতে নিলে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পায় না। ফলে বাস্তবায়ন দীর্ঘায়িত হয় এবং অসমাপ্ত প্রকল্প ভবিষ্যৎ বাজেটের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে।"

বিজ্ঞাপন
Advertisement

প্রকল্প বাস্তবায়নে ৫টি বড় চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়

অবকাঠামো খাতের এই স্থবিরতা কাটাতে এবং সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। এসব সংস্কারের মধ্যে রয়েছে:

  • পূর্ণ প্রস্তুতি ও সঠিক প্রকল্প বাছাই: সম্ভাব্যতা যাচাই, বিস্তারিত নকশা এবং জমি অধিগ্রহণ নিশ্চিত না করে নতুন কোনো বড় প্রকল্প অনুমোদন করা উচিত নয়।
  • চলমান প্রকল্প অগ্রাধিকার: নতুন প্রকল্পের সংখ্যা সীমিত করে গুরুত্বপূর্ণ চলমান কাজগুলো দ্রুত শেষ করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে।
  • পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি: প্রকল্প পরিচালক ও ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ এবং দক্ষ জনবল নিয়োগ করতে হবে এবং ঘন ঘন কর্মকর্তা বদলি এড়াতে হবে।
  • আন্তসংস্থা সমন্বয়: জমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরের মতো কাজগুলোতে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যকার সমন্বয়হীনতা দূর করতে হবে।
  • ফলাফলভিত্তিক জবাবদিহি: প্রকল্পের ব্যয় ও সময়ের যেকোনো পরিবর্তন নিয়মিত মূল্যায়ন করে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ কাজের ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে হবে।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে কম রেয়াতি ও বাজারভিত্তিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে, যেখানে সুদের হার তুলনামূলক বেশি। এই পরিবর্তিত অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রতিটি প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ও দূরদর্শী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নতুন কোনো আইন বা নীতি তৈরির চেয়ে বিদ্যমান পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট রিফর্ম স্ট্র্যাটেজি বা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলের সঠিক ও ধারাবাহিক প্রয়োগই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

Advertisement
Advertisement
বিজ্ঞাপন
Advertisement
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।