
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লারকের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সংস্কার কার্যক্রম ও সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে সহযোগিতার আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। ১২ অক্টোবর ব্যাংককে শুরু হওয়া এই বার্ষিক সভা আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকরা অংশ নিচ্ছেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে আইএমএফ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। গত কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সংস্থাটির তথ্য আদান-প্রদান ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, যা দুই পক্ষের অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ব্যাংকিং খাতের পুনঃমূলধনীকরণ, কর-জিডিপি অনুপাত এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো নিয়ে বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। শর্ত থাকবে, তবে মতপার্থক্যগুলো আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা হবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাংকিং খাত ও কর-জিডিপি অনুপাতসহ কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে সংস্থাটির কিছু পর্যবেক্ষণ থাকা স্বাভাবিক এবং বাংলাদেশেরও নিজস্ব কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক বিষয়ের সমাধান হয়েছে এবং বাকি বিষয়গুলো আগামী কয়েক মাস ধরে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও নিজস্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
বাংলাদেশের একটি বিশ্বাসযোগ্য কৌশল রয়েছে বলেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই আলোচনা এত দূর এগিয়েছে বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও দেশের অর্থনীতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীরা একযোগে কাজ করতে আগ্রহী। আগামী দিনগুলোতে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।