সংক্ষেপে মূল তথ্য
- দিওয়ালি ও ছট পূজার ভিড় সামলাতে নয়াদিল্লি থেকে পাটনা পর্যন্ত চলছে বন্দে ভারত ফেস্টিভ্যাল স্পেশাল ট্রেন।
- সপ্তাহে তিন দিন চলা ১৬ কোচের এই ট্রেন প্রায় ১৩ ঘণ্টায় পৌঁছে দিচ্ছে গন্তব্যে, সার্ভিস চলবে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত।
দিওয়ালি আর ছট পূজা ঘিরে বাড়ি ফেরার ভিড় সামলাতে নয়াদিল্লি থেকে বিহারের রাজধানী পাটনা পর্যন্ত বন্দে ভারত ফেস্টিভ্যাল স্পেশাল ট্রেন চালাচ্ছে ভারতীয় রেলওয়ে। সপ্তাহে তিন দিন করে চলা এই বিশেষ ট্রেনের নিয়মিত সার্ভিস শুরু হয়েছে ২১ অক্টোবর থেকে, চলবে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। উৎসবের মৌসুমে দিল্লি থেকে উত্তর প্রদেশ ও বিহারগামী নিয়মিত ট্রেনগুলোতে টিকিটের জন্য হাহাকার আর দীর্ঘ ওয়েটিং লিস্টের চাপ কমানোই এই সার্ভিসের মূল উদ্দেশ্য।
নয়াদিল্লি থেকে পাটনাগামী ০২২৫২ নম্বর ট্রেনটি ছাড়ে প্রতি সোমবার, বুধবার আর শনিবার। সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে নয়াদিল্লি থেকে রওনা হয়ে ট্রেনটি রাত ৯টা ৩০ মিনিটে পৌঁছায় পাটনা জংশনে, প্রায় ৯৯৮ কিলোমিটারের এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে ১২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট। ফিরতি পথে ০২২৫১ নম্বর ট্রেনটি পাটনা থেকে ছাড়ে প্রতি মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার আর রোববার। সকাল ১০টায় পাটনা জংশন থেকে রওনা হয়ে ট্রেনটি রাত ১১টা ৩০ মিনিটে পৌঁছায় নয়াদিল্লিতে।
দিল্লি থেকে পাটনার ট্রেনটি চলবে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত, আর ফিরতি ট্রেনের শেষ যাত্রা ২৬ নভেম্বর। নিয়মিত সূচি শুরুর আগেই পরীক্ষামূলকভাবে দুটি করে অতিরিক্ত যাত্রা সম্পন্ন করেছে ট্রেন জোড়া, দিল্লি থেকে ১৬ ও ১৮ অক্টোবর এবং পাটনা থেকে ১৭ ও ১৯ অক্টোবর। সব মিলিয়ে দুই দিক থেকেই ১৮টি করে যাত্রা চালাবে এই স্পেশাল ট্রেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সূচি অনুযায়ী ফিরতি ট্রেনটির পাটনা থেকে নয়াদিল্লি যাওয়ার দিন।
১৬ কোচের এই ট্রেনে রয়েছে এসি চেয়ার কার ও এক্সেকিউটিভ চেয়ার কার, দুই শ্রেণির আসন। রেলওয়ের হিসাব অনুযায়ী প্রতিটি যাত্রায় এক হাজারের বেশি অতিরিক্ত আসন পাচ্ছেন যাত্রীরা, যা উৎসবের ভিড়ে বড় স্বস্তি। এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, টিকিটের ভাড়া ধরা হয়েছে এসি চেয়ার কারে ২ হাজার ৬১৫ রুপি আর এক্সেকিউটিভ চেয়ার কারে ৪ হাজার ৬৯৫ রুপি। পুরোপুরি সংরক্ষিত এই ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে আইআরসিটিসির ওয়েবসাইটে অনলাইনে, পাশাপাশি স্টেশনের রিজার্ভেশন কাউন্টারেও।
পথে মোট ছয়টি স্টেশনে থামে ট্রেনটি। স্টেশনগুলো হলো আলীগড়, কানপুর সেন্ট্রাল, প্রয়াগরাজ, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশন, বক্সার ও আরা। ফলে শুধু পাটনাই নয়, পশ্চিম ও মধ্য উত্তর প্রদেশের যাত্রীদের পাশাপাশি বক্সার আর আরার মতো বিহারের জেলা শহরের যাত্রীদের জন্যও রাজধানী দিল্লি থেকে সরাসরি দ্রুতগতির সংযোগ মিলছে এই ট্রেনে। নর্দার্ন রেলওয়ে জোন পরিচালনা করছে এই সার্ভিসটি।
দিওয়ালির পর ছট পূজা ঘিরেও বিহারমুখী যাত্রীর চাপ থাকে সবচেয়ে বেশি। প্রবাসী শ্রমিক আর চাকরিজীবীদের বড় একটি অংশ এই সময়ে পরিবারের সঙ্গে উৎসব কাটাতে দেশের বাড়ি ফেরেন। রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু এই একটি ট্রেন নয়, উৎসবের মৌসুম জুড়ে সারা দেশে বিহারমুখী আরও অনেক বিশেষ ট্রেন চালানো হচ্ছে। তবে দিল্লি-পাটনা রুটে বন্দে ভারতের মতো আধুনিক ট্রেনের এই স্পেশাল সার্ভিস যাত্রীদের কাছে আলাদা আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।