
যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী ধ্বংসযজ্ঞ এবং চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেও জীবন বাঁচিয়ে রাখার ব্যতিক্রমী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ফিলিস্তিনের যুবসমাজ। কেন্দ্রীয় গাজার নুসেইরাত এলাকায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন ও ধূসরস্তূপের মাঝে ছোট্ট একটি খোলা জায়গায় নিয়মিত তায়কোয়ান্দো অনুশীলন করছেন গাজার তরুণরা। চারপাশের চরম বিপর্যয়ের মাঝেও তাদের এই ক্রীড়া চর্চা এবং মানসিক দৃঢ়তা বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে, যা সংঘাতের মাঝেও স্বাভাবিক জীবনের আকাক্সক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার নুসেইরাত এলাকার এই দৃশ্য ধারণ করা হয়। যেখানে একদল তরুণ তায়কোয়ান্দো অনুশীলনে ব্যস্ত ছিলেন এবং তাদের চারপাশের ভগ্নস্তূপের ওপর বসে সেই অনুশীলন উপভোগ করছিলেন স্থানীয় শিশুরাসহ অন্যান্যরা। একদিকে বিমান হামলার ভয়াবহ স্মৃতি এবং অন্যদিকে বেঁচে থাকার এই আকুতি গাজার বর্তমান বাস্তবতার এক নির্মম অথচ অদম্য চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পরও বিগত সময়ে ইসরায়েলি হামলা ও সহিংসতায় ১ হাজার ৪শ' ৪৫ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এই সংঘাতে আহত হয়েছেন আরও ৫ হাজার ৫২ জন। একই সঙ্গে সংঘাতের এই সময়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মোট ৮৩৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে গাজায় মানবিক সংকটের চরম রূপ হিসেবে সম্প্রতি একটি বড় গণদাফন সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় তিন বছর আগে ইসরায়েলি বিমান হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি আবাসিক ভবনের অবশিষ্টাংশ থেকে ১০৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ থাকা এসব মানুষের মরদেহ উদ্ধারের পর স্থানীয় স্বজন ও সাধারণ মানুষ এক হৃদয়বিদারক পরিবেশে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করেন।
বর্তমানে গাজাজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ অব্যাহত রেখেছে উদ্ধারকর্মীরা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলের উদ্বেগ সত্ত্বেও অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় মানবিক পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি, বরং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন লাশের মিছিলে ভারী হচ্ছে গাজার আকাশবাতাস।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।