
ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। খাইবার পখতুনখোয়া প্রদেশের লাক্কি মারওয়াত থেকে মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির নেতৃত্বে এই লংমার্চ শুরু হয়। এর আগে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে পিটিআইয়ের সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় দলটি এই কঠোর কর্মসূচি বেছে নেয়। দলের ঘোষণা অনুযায়ী, লংমার্চের বহর নির্দিষ্ট রুট ধরে এগিয়ে চলেছে এবং পরবর্তী কর্মসূচি শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।
রোববার পিটিআইয়ের মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা দাবি করেন, রাতভর চলা আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ ছিল খাইবার পখতুনখোয়ায় কেন্দ্রীয় সরকার একতরফাভাবে যে সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলোর দায় প্রাদেশিক সরকারের ওপর চাপানোর কেন্দ্রের অনড় অবস্থান। তিনি জানান, খাইবার পখতুনখোয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী যেকোনো পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে এবং সকল রাজনৈতিক দলের পরামর্শ নিয়ে নিতে হবে। এদিকে পরিকল্পিত এই লংমার্চকে কেন্দ্র করে পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকা এবং ফেডারেল রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী ১৫ই অক্টোবর পর্যন্ত রেঞ্জার্স সদস্যদের মোতায়েনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
"খাইবার পখতুনখোয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপের কাঠামো তৈরি করতে হবে প্রাদেশিক পরিষদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পরামর্শ ও সম্মতির ভিত্তিতে।" - সালমান আকরাম রাজা, মহাসচিব, পিটিআই
পিটিআই নেতাদের কঠোর সমালোচনা করে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করছেন এবং সশস্ত্র বহর নিয়ে চলাচল করছেন। এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, পিটিআই কর্মীরা রাস্তায় অস্ত্র বহন করলেও নেতারা বুলেটপ্রুফ সরকারি গাড়িতে লুকিয়ে আছেন। অন্যদিকে কাশ্মীর ও গিলগিট-বালতিস্তানবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আমির মুকাম মন্তব্য করেছেন যে, খাইবার পখতুনখোয়ার জনগণ চরম দুর্ভোগের মধ্যে থাকলেও প্রাদেশিক সরকার সমস্যা সমাধানে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। আফগানিস্তান থেকে হামলা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে পিটিআইয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যকার এই সংঘাত পাকিস্তানের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। ইসলামাবাদ অভিমুখে এই লংমার্চকে ঘিরে রাজধানী ও এর আশপাশের অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে উদ্ভূত এই সংকট সহসা নিরসনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, যা আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।