|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

ভুল বুঝতে পেরে মাকে কাছে রাখলেন পাবনার গ্রাম পুলিশ সাগর

0 শেয়ার
মায়ের সঙ্গে সাঁথিয়া ইউএনও কার্যালয়ে গ্রাম পুলিশ সাগর হোসেন
মায়ের সঙ্গে সাঁথিয়া ইউএনও কার্যালয়ে গ্রাম পুলিশ সাগর হোসেন
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • মায়ের দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানানো গ্রাম পুলিশ সাগর আদালতের হস্তক্ষেপে ভুল বুঝতে পেরেছেন।
  • পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে তিনি মাকে সারা জীবন কাছে রাখার অঙ্গীকার করেন।
  • মা-ছেলে বর্তমানে একসঙ্গে অত্যন্ত সুখে ও স্বস্তিতে বসবাস করছেন।

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সাগর হোসেন নিজের ভুল বুঝতে পেরে মাকে সারা জীবন কাছে রাখার অঙ্গীকার করেছেন। সোমবার সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে মায়ের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে তিনি জানান, রাগের মাথায় মায়ের বিরুদ্ধে কথা বললেও অনুশোচনায় তাঁর তিন দিন ঘুম হয়নি। এর আগে গত রোববার আদালতের হস্তক্ষেপে মা মুন্নি খাতুনের সঙ্গে তাঁর বিরোধের অবসান ঘটে।

দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ছাড়াল এক লাখ, মৃত্যু বেড়ে ৩০৮ জন

গত ৮ অক্টোবর মায়ের দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন সাগর। মাকে নিজের সঙ্গে রাখতে অস্বীকৃতি জানানোর পাশাপাশি ইউএনওর কার্যালয়ে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তীতে আদালতের নজরে এলে পাবনা আদালত মা ও ছেলেকে ডেকে তাঁদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের নিষ্পত্তি করেন। আদালতের এই ইতিবাচক পদক্ষেপে মা-ছেলের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে।

রোববার আদালতের আদেশের পর থেকেই মা মুন্নি খাতুন ছেলের সঙ্গেই বসবাস করছেন। সোমবার দুপুরে সাগর তাঁর মাকে নিয়ে সাঁথিয়ার ইউএনও সেলিম আহমেদের কার্যালয়ে আসেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সাগরের মামা ও খালু। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে মা-ছেলে একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান। আনন্দঘন পরিবেশে মা-ছেলের মুখে ছিল স্বস্তির ছাপ।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

আদালতের হস্তক্ষেপে অবসান পারিবারিক বিবাদের

মৃত সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী মুন্নি খাতুন দুই সন্তানের জননী। মেয়ের বিয়ের পর জীবনের শেষ সময়ে তিনি একমাত্র ছেলে সাগরের সঙ্গেই থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ছেলের নতুন সংসারে পুত্রবধূর সঙ্গে শাশুড়ির বনিবনা না হওয়ায় পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে মায়ের ভরণপোষণ ও আশ্রয় নিশ্চিত করতে মুন্নি খাতুন সাঁথিয়ার ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। প্রশাসন ও স্থানীয়ভাবে দফায় দফায় চেষ্টা করেও যার তাৎক্ষণিক সমাধান মিলছিল না।

সাগর হোসেন বলেন, 'আদালত ও ইউএনও স্যারের উদ্যোগে বিষয়টি বুঝতে পেরেছি। এখন মাকে নিজের কাছে রাখতে পেরে খুব ভালো লাগছে। সারা জীবন তাঁর দেখাশোনা করব, আর কোনো দিন তাঁকে দূরে সরাব না।'

সন্তানের এমন পরিবর্তনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন মা মুন্নি খাতুন। তিনি বলেন, 'পাবনার আদালত আমাকে ও আমার ছেলেকে ডেকে নিয়েছিল। ছেলে আদালতেই আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছে। ছেলের প্রতি আমার কোনো রাগ বা অভিমান নেই। পুত্রবধূ ও ছেলে আমাকে খুব যত্ন করছে। আমি সবার কাছে আমার ছেলের জন্য দোয়া চাই।' সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশে পুলিশি নিরাপত্তায় মা ও ছেলেকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তাঁদের নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

Advertisement
Advertisement
বিজ্ঞাপন
Advertisement
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।